"কলকাতায় আর থাকবে না মুঘল-পাঠানের 

কলকাতার মানচিত্রে বড় বদলের ইঙ্গিত, রাস্তার নাম ঘিরে নতুন অধ্যায়ের ঘোষণা শুভেন্দুর

কলকাতার রাস্তার নাম আর শুধু ঠিকানা নয়, তা এখন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। বিধানসভার মঞ্চ থেকে সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কের মাঝেই তিনি জানিয়ে দিলেন, শহরের নামফলকে আর মুঘল, পাঠান কিংবা অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকদের ছাপ রাখতে চায় না রাজ্য সরকার। বরং বাংলার গৌরব, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিকেই সামনে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

বিধানসভায় এদিন নামকরণ বিতর্ক নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কলকাতায় কোনও মুঘল-পাঠানের নাম থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়। শুধু একটি রাস্তার নাম বদল নয়, গোটা শহরের নামকরণের দর্শনই বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর বক্তব্যে।

এই প্রক্রিয়াকে সুসংগঠিত করতে কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠনের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন রাস্তা, কোন এলাকা বা কোন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর ধরে বাংলার বহু মনীষী, বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিকের অবদান আড়ালে পড়ে থেকেছে। সেই ইতিহাসকে সামনে এনে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্কও তুঙ্গে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ইতিহাসকে রাজনৈতিক রঙে ব্যাখ্যা করে নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নামকরণের ইতিহাস নিয়ে সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক নয়। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের বক্তব্য, এটি ইতিহাস মুছে ফেলার নয়, বরং বাংলার আত্মমর্যাদাকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ।

সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ কেবল শুরু। আগামী দিনে কলকাতার বহু পরিচিত রাস্তা, মোড় ও এলাকার নাম নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা হতে পারে। ফলে শহরের মানচিত্রে শুধু নামের পরিবর্তন নয়, ইতিহাসকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

এখন নজর কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বাধীন কমিটির দিকে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই ঠিক হবে, আগামী দিনের কলকাতা কোন ইতিহাসকে স্মরণে রাখবে আর কোন অধ্যায়কে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে।