২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই নকআউট পর্বে পৌঁছে গিয়েছে নরওয়ে। তবে আর্লিং হালান্ডদের এই সাফল্যের নেপথ্যে শুধুই কঠোর পরিশ্রম নয়, এ ছাড়াও রয়েছে একটি দুর্দান্ত স্ট্র্যাটেজিও। বিশ্বকাপের আসরে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চায়নি নিশীথ সূর্যের দেশ। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, পুষ্টি এবং পরিচিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে দেশ থেকে ১ টনেরও বেশি খাবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে তারা। জানা যাচ্ছে, গোটা প্রতিযোগিতাজুড়ে সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল দল।

নরওয়ের খেলোয়াড়দের খাদ্য তালিকায় রয়েছে প্রচুর মাছ, নরওয়েজিয়ান চিজ এবং কমলালেবু-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী খাবার। কেবল রসনা তৃপ্তির জন্যই নয়। বরং খেলোয়াড়রা যে ডায়েটে অভ্যস্ত তা ধরে রাখতেই যুক্তরাষ্ট্রের অচেনা খাবারদাবারের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের পরিচিত এই পদগুলির ওপর আস্থা রাখছে দলটি। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়ায় ফুটবলারদের শক্তি এবং কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এ সমস্ত চেনা খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশ্য অ্যাথলেটদের পুষ্টি নিয়ে নরওয়ের এই বাড়তি সতর্কতা নতুন নয়। গত ২০১৮ সালের অলিম্পিকেও দেখা গিয়েছিল একই ছবি। তবে সে বার ভুলবশতঃ দেড় হাজার ডিমের পরিবর্তে ১৫ হাজার ডিমের অর্ডার দিয়ে আলোচনায় এসেছিল দেশটি। এ বার অবশ্য ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি গোছানো এবং বিজ্ঞানসম্মত বলেই দাবি করা হচ্ছে। এই বিশেষ খাদ্যতালিকাটি প্রস্তুত করেছেন হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের ডায়াটের দায়িত্বে থাকা নরওয়ের পুরস্কারজয়ী শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড। তাঁর কথায়, "নরওয়ের সেরা উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"

যদিও এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কও শুরু হয়ে গিয়েছে সমাজ মাধ্যমে। কারও কারও দাবি, দেশ থেকে এভাবে ১ টনেরও বেশি পরিমাণ খাবারদাবার নিয়ে এসে আমেরিকাকে কার্যত অপমানই করেছে নরওয়ে। ট্রাম্পের দেশের আতিথেয়তা এবং ব্যবস্থাপনায় একটুও বিশ্বাস নেই তাদের। অবশ্য বিশ্বকাপের মঞ্চেও এই ধরণের ঘটনা এই ধরণের ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাও দেশ থেকে প্রায় ৯০০ কেজি খাবার নিয়ে গিয়েছিল।