কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি তিনতলা গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ আচমকাই গুদামটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসন, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পুলিশ উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যান। নবান্ন থেকেও উদ্ধারকাজের উপর নজর রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সারাক্ষণ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধারকার্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

এদিকে, গুদাম নির্মাণের অনুমোদন কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কলকাতার মেয়র ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেননি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এবং উদ্ধারকাজে যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেই কারণেই তাঁকে মাঝপথ থেকে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।

ঘটনার আগে স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার খানও এলাকায় পৌঁছেছিলেন। তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করে। সেই অভিজ্ঞতার পর প্রশাসন আর কোনও নতুন বিতর্ক বা বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে ফিরহাদ হাকিমকে ঘটনাস্থলে না গিয়ে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় চল্লিশ বছর বয়সি রোহিত চৌধুরী, তিরিশ বছর বয়সি কৃষ্ণ চৌধুরী এবং আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১৮ জনকে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে মোট ২০টি অ্যাম্বুল্যান্স। তারাতলা থেকে এসএসকেএম হাসপাতাল পর্যন্ত বিশেষ গ্রিন করিডর তৈরি করে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়।

বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে আটজন আহতের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের চিকিৎসার উপর নজর রাখছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলেও একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প খোলা হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকে। একইসঙ্গে গুদাম ধসের কারণ জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে।