তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের মর্মান্তিক ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, তৃণমূল আমলে অনুমোদন পাওয়া সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক বহুতল ও বড় নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও কাঠামোগত অডিট করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পিডব্লিউডি, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, দমকল এবং পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হবে। এই টিম প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পের নকশা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বাস্তব নির্মাণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। কোথাও কোনও ত্রুটি বা অনিয়ম ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অডিটে ছাড়পত্র পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে হাসপাতাল, মেট্রো, দমকল, সেনাবাহিনী বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলি এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ ভবন আচমকাই ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ দলও। ভার্টিকাল ড্রিলিং, ড্রোন নজরদারি এবং স্নিফার ডগের সাহায্যে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা ধারণা করছেন যে ত্রুটিপূর্ণ নকশা বা নির্মাণগত গাফিলতির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। সেই কারণেই অতীতে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানগুলিকে নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১৮ জনকে। আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গ্রিন করিডর তৈরি করা হয়। বর্তমানে একাধিক আহতের চিকিৎসা চলছে। ঘটনাস্থলে একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পও খোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তারাতলার এই বিপর্যয়ের পর রাজ্যের নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনের তরফে।