অবশেষে চোট সারিয়ে মাঠে ফিরলেন নেইমার জুনিয়র। কিন্তু তাঁকে বিশেষ কিছু করতেই হল না। দরকারই পড়ল না। কারণ, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮ করার সিদ্ধান্তে প্রতিযোগিতার মান কতটা বজায় থাকছে, নতুন করে সেই প্রশ্নই তুলে দিল ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে কার্যত কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি স্কটিশরা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে তারা যেন কার্যত গা বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল। ফলে লড়াইয়ের বদলে সেলেকাওদের একতরফা ৩-০ জয়ই দেখতে হল দর্শকরা।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগ অবশ্য প্রতিপক্ষের এই নিষ্ক্রিয়তার পুরো সুবিধা নিয়েছে। প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র জোড়া গোল করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। ৬০ মিনিটে আর একটি গোল করেন ম্যাথেউস কুনহা। স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের একাধিক ভুল ব্রাজিলকে গোলের সুযোগ এনে দেয়। বিশেষ করে প্রথমার্ধে স্কটিশ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসের অভাব চোখে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। বল দখল বা আক্রমণ গড়ার বদলে তারা নিজেদের অর্ধেই সীমাবদ্ধ থেকেছে দীর্ঘ সময়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা বদল দেখা যায় ইউরোপীয় দেশটির খেলায়। বেশ কয়েকটি আক্রমণ থেকে গোলের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। স্কট ম্যাকটমিনের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগানোর মতো ধার ছিল না স্কটিশদের আক্রমণে। অন্যদিকে ব্রাজিল আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত, যদি তাদের ফরোয়ার্ডরা একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট না করতেন। এ ছাড়া ২১ মিনিটে ভিনির একটি গোল বাতিলও করে 'ভার'। নয়তো তাঁর হ্যাটট্রিক হয়ে যেত।
যদিও এই ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিঃসন্দেহে নেইমারের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ চোটের পর ২০২৩ সালের পর প্রথমবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি। যদিও শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে খুব একটা ছাপ ফেলতে পারেননি। একই সঙ্গে ১৯ বছরের রায়ানকে প্রথম একাদশে রেখে ভবিষ্যতের দিকেও নজর দিলেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ১৯৭০ বিশ্বকাপে মার্কো অ্যান্তোনিওর পর এই প্রথম কোনও টিনএজারকে বিশ্বকাপের ম্যাচে নামাল সেলেকাওরা। অন্যদিকে হাইতিকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। ফলে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান হলেও উন্নত গোলপার্থক্যের সুবাদে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নক-আউট পর্বে উঠল ব্রাজিল।