তারাতলার গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘিরে চলছে জোরকদমে উদ্ধার কাজ। গতকাল দুপুরে তারাতলায়, ব্রেসবিজের কাছে একটি নামী ব্যাটারি কোম্পানির গোডাউন নির্মীয়মাণ অবস্থায় ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে যায় পুলিশ-দমকল-সেনাবাহিনী তথা জাতীয় বিপর্যয় রক্ষা বাহিনী।
উদ্ধার কাজে নেমে এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে আহতের সংখ্যা ২০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।ড্রিল করে চলছে উদ্ধার কাজ। ভোররাতেও অনেকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।
সকাল থেকে উদ্ধার কাজ আরো গতি পেয়েছে। উদ্ধার কাজ করার জন্য আনা হয়েছে হাইড্রোলিক ক্রেন এবং ড্রিলমেশিন। ক্রেনগুলি কাঠামোগুলিকে অনেকটাই সরিয়ে দিতে সফল হয়েছে। এছাড়াও ড্রিলিং করেও চলছে উদ্ধার কাজ। এই ঘটনায় পুলিশ কাল থেকেই স্নিফার-ডগ অর্থাৎ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের মাধ্যমেও আটকা পড়ে থাকা মানুষদের খুঁজে চলেছে।
সূত্র জানাচ্ছে,মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গুদামটি তৈরির সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। একইসঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের তরফ থেকে অভিযোগের আঙুল উঠছে বেহালার প্রাক্তন বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। জনগণের উষ্মা, প্রাক্তন এই বিধায়ক সিন্ডিকেট কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত; এবং তারাতলার রাস্তার সংস্কারের জন্য তিনি কিছুই করেননি।
আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে হাসপাতালে আহতদের সাথে দেখা করতে যান।
এই ঘটনায় গতকাল রাতেই গ্রেফতার হন গোডাউন মালিক শম্ভুনাথ বেহরা সহ পাঁচজন। প্রথমে শম্ভুনাথ বেহরা'কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায় ওই গোডাউনটি যে আবাসনের সামনে তৈরি হচ্ছিল, সেই আবাসনে মোট ছয়টি ফ্ল্যাট আছে শম্ভুনাথ বেহরা'র।সেই আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই ধৃতের গতিবিধি জানা যায়, এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার অভিমুখ কোনদিকে যাচ্ছে এটাই এখন দেখার বিষয়
ধ্বংসস্তূপ তারাতলায় চলছে উদ্ধার কাজ,বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা