কলকাতা: ভোটের লড়াই শেষ হলেও সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কাজে কোনও বিরতি দিতে নারাজ বিজেপি। বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব- সকলকে একই সুতোয় গাঁথতে আগামী পাঁচ সপ্তাহে রাজ্য জুড়ে ১৩১৩টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেরুয়া শিবির। দলীয় সূত্রে খবর, সংগঠনের আদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসংযোগের কৌশল এবং সরকারের সাফল্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি- সবই থাকবে এই প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচিতে।

বিজেপির মতে, নির্বাচনী সাফল্য ধরে রাখতে হলে শুধু নেতৃত্ব নয়, তৃণমূল স্তরের কর্মীদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ‘প্রশিক্ষণ অভিযান’-এর মাধ্যমে বুথ, মণ্ডল, জেলা এবং রাজ্য স্তরের কর্মীদের এক ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই কর্মসূচি কেবল রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নয়, বরং কর্মীদের মধ্যে আদর্শগত স্পষ্টতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

সূত্রের খবর, প্রতিটি প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকবেন অভিজ্ঞ বক্তা ও সংগঠকরা। বিজেপির ইতিহাস, সাংগঠনিক কাঠামো, জনমুখী প্রকল্পের প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক বক্তব্যের মোকাবিলার মতো বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি যে ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালিয়েছে, সেই মডেলকেই অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে সংগঠনের বিস্তার এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার উপর জোর দিয়ে আসছে। বিভিন্ন বৈঠকে কর্মীদের মানুষের মধ্যে আরও বেশি সময় কাটানোর এবং বুথভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামোকে সক্রিয় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন নিজেদের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে, অন্যদিকে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনাও সঞ্চার করতে চাইছে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই কর্মসূচির শেষে বুথ স্তর পর্যন্ত এক সুসংহত সাংগঠনিক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।

সংগঠনের ভিত শক্ত করতে অতীতে ‘মহা প্রশিক্ষণ অভিযান’-এর মতো বৃহৎ কর্মসূচিও নিয়েছিল বিজেপি। সেই ধারাবাহিকতাতেই এ বার ১৩১৩টি প্রশিক্ষণ শিবিরকে ঘিরে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি নেতৃত্বের।