ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা না সামলাতেই ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিশ্বের আর এক কম্পনপ্রবণ দেশ জাপান। বৃহস্পতিবার পূর্ব উপকূলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর। কম্পনের মাত্রা যথেষ্ট বেশি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সুনামিরও কোনও আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জাপান সরকার।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎসস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রের নিচে উৎপত্তি হওয়ায় ভূমিকম্পটি বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হলেও আপাতত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসেনি।

জাপান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে সুনামি সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হয়নি। তবে ভূমিকম্পের জেরে সমুদ্রপৃষ্ঠে সামান্য ওঠানামা বা অস্বাভাবিক ঢেউ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ইতিমধ্যেই একটি জরুরি পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনীকে।

আসলে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় প্রায়শই ভূমিকম্পের সম্মুখীন হতে হয় দেশটিকে। ফলে শক্তিশালী কম্পনের পরও দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে, এর কয়াকঘন্টা আগেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির উত্তরাঞ্চলে প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তার মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭.৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গোটা দেশ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, গত ১২৫ বছরের মধ্যে এটিই ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সেই জোড়া ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০ জন। বহু বাড়িঘর, রাস্তা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোটা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।