গতবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, এবার টানা দুই ম্যাচ জিতে নির্দ্বিধায় নক-আউটের টিকিট, সঙ্গে নিজের পায়ে দেওয়া ৫ গোল; মেসির জীবনে জন্মদিনের এমন মুহূর্ত হয়তো আগে আসেনি। তাই এবার ছিল মেগা-সেলিব্রেশনের সুযোগ। কিন্তু না, মেসি তা করলেন না। এজন্যই আর পাঁচটা ফুটবলারের থেকে তিনি আলাদা, এজন্যই তিনি এক এবং অনন্য।
ইতিহাসের হিসেব বলছে, লিওনেল মেসির ফুটবল কেরিয়ারের ২২টি জন্মদিনের মধ্যে ১৩টিই কেটেছে জাতীয় দলের শিবিরে। ২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে প্রথমবার জাতীয় শিবিরে জন্মদিন পালন করেছিলেন তরুণ মেসি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮। সেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা ফুটবলারের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় সতীর্থ হুয়ান রোমান রিকেলমের সঙ্গে কেক কেটেছিলেন মেসি। দুই দশক পর সেই ছবিগুলো আজ ইতিহাস। রিকেলমে নেই, নেই সেই সময়ের অধিকাংশ সতীর্থও। কিন্তু মেসি রয়েছেন। এখন তাঁর পাশে জন্মদিনের কেক কাটছেন রদ্রিগো ডি’পল, এনজো ফার্নান্দেজদের মতো নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা।
এবারের জন্মদিনও কাটছে বিশ্বকাপের আবহে। নকআউট পর্বের আগে মায়ামিতে পৌঁছনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। ইতিমধ্যেই মায়ামির সমুদ্রসৈকতগুলো নীল-সাদা জার্সিধারী সমর্থকে ভরে উঠেছে। ব্রাজিল ও পর্তুগালের সমর্থকদের পাশাপাশি সেখানে এখন সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা মেসিকে ঘিরেই। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক রোদোলফো বারিলির উদ্যোগে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় এক অভিনব প্রচারাভিযান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মেসি-ভক্তদের আহ্বান জানানো হয় টানা ১২ ঘণ্টা ধরে জন্মদিনের গান গেয়ে ভিডিও পোস্ট করতে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মায়ামির ক্র্যান্ডন পার্ক, হাউলোভার বিচ-সহ নানা জায়গায় জমে ওঠে উৎসব।
তবে নিজের জন্মদিনে মেসি যা করলেন, তা আরও বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কেক কাটা বা পারিবারিক মুহূর্তের ছবি নয়, আর্জেন্টিনার সময় অনুযায়ী মধ্যরাতে নিজের ইনস্টাগ্রামে তিনি পোস্ট করলেন জিমে অনুশীলনের একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, কঠোর ফিটনেস ট্রেনিংয়ে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জন্মদিন নিয়ে একটি শব্দও লেখেননি তিনি। কিন্তু সেই নীরব বার্তাই যেন সবচেয়ে জোরালো। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল ‘তিয়েরা দে ক্যাম্পেওনেস’—অর্থাৎ ‘চ্যাম্পিয়নদের দেশ’। আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের কাছে যা প্রায় জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পেয়েছে। অনেকের মতে, জন্মদিনে এই গান এবং ফিটনেস ট্রেনিংয়ের ভিডিও পোস্ট করে মেসি আসলে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—লক্ষ্য এখনও শেষ হয়নি। বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষুধা এখনও অটুট।
এদিকে গ্রুপ পর্বে পরপর দুই ম্যাচ জিতে নকআউট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে জর্ডনের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি কার্যত নিয়মরক্ষার। কোচ লিওনেল স্কালোনি চাইছেন বেঞ্চের ফুটবলারদের সুযোগ দিতে। সেই কারণে মেসিকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। যদিও আর্জেন্টিনা শিবির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মেসি নিজেই মাঠের বাইরে থাকতে খুব একটা আগ্রহী নন। গোলের দৌড়ে তরুণ তারকাদের চ্যালেঞ্জ এবং ছন্দ ধরে রাখার তাগিদ তাঁকে এখনও সমানভাবে তাড়িত করছে।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপে যে কিশোরকে দেখে বিশ্ব মুগ্ধ হয়েছিল, সেই মেসির বয়স এখন ৩৯। কিন্তু মাঠে, মানসিকতায় কিংবা স্বপ্নে তাঁর বয়স যেন এখনও থমকে আছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সতীর্থ, বদলেছে প্রজন্ম, বদলেছে বিশ্ব ফুটবল। বদলায়নি শুধু লিওনেল মেসির জয়ের ক্ষুধা।
জন্মদিনে মেগা-সেলিব্রেশন! কার সাথে ছুটি কাটালেন মেসি? জানলে চমকে উঠবেন