বিদায়ের মঞ্চটাও যেন তাঁর জন্যই অপেক্ষা করছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করেছিলেন। আর শেষ ম্যাচে নেমে সেই বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখলেন গিয়ের্মো ‘মেমো’ ওচোয়া। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমে মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক।
৪০ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে দেশের হয়ে মাঠে নেমে মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রবীণ ফুটবলার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন ওচোয়া। ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। ফলে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচই হয়ে রইল রেকর্ডের সাক্ষী। মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারায় মেক্সিকো। ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ওচোয়া। আর সেই মুহূর্তেই ভেঙে যায় রাফা মার্কেসের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর ১৩৯ দিন বয়সে মাঠে নেমে মার্কেস যে নজির গড়েছিলেন, সেটিই এখন অতীত।
তবে শুধু এটুকুই নয়। ওচোয়া আরও একটি বিরল কৃতিত্বের মালিক হলেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ছ’টি পৃথক বিশ্বকাপে মাঠে নামার নজির গড়লেন তিনি। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকলেও প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি ওচোয়া। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ছিলেন মেক্সিকোর প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক। এবারের বিশ্বকাপেও তাঁর খেলার সুযোগ তৈরি হয় লুইস আঞ্জেল মালাগনের চোটের কারণে। শেষ ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামিয়ে বিশেষ সম্মান জানান কোচ হাভিয়ের আগিরে এবং তাঁর কোচিং স্টাফ।
ওচোয়ার বিদায়ের দিন মাঠেও ছিল মেক্সিকোর দাপট। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে গোল করে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেন তরুণ মাতেও চাভেস এবং হুলিয়ান কিনোনেস। যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ান আলভারো ফিদালগো। ৩-০ ব্যবধানে জিতে টানা তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে পৌঁছে যায় মেক্সিকো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য পেল মেক্সিকো। এর আগে ১৯৮৬ এবং ২০০২ সালে দুই জয় ও এক ড্র ছিল তাদের সেরা ফল। উল্লেখযোগ্যভাবে, সেই দুই বিশ্বকাপের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন বর্তমান কোচ হাভিয়ের আগিরে—একবার ফুটবলার হিসেবে, অন্যবার কোচ হিসেবে। এবার তৃতীয় দফায় জাতীয় দলের দায়িত্বে থেকে আরও একবার ইতিহাস লিখলেন তিনি।
তবে উৎসবের মাঝেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। ম্যাচ চলাকালীন আজটেকা স্টেডিয়ামের একাংশ থেকে আবারও শোনা যায় সমকামীবিদ্বেষী নিষিদ্ধ স্লোগান। অতীতেও এমন ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশনকে। তবু দিনের শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন একজনই—মেমো ওচোয়া। ১৩ নম্বর জার্সি গায়ে শেষ ১৩ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বিদায় জানালেন তিনি। সংখ্যার এই অদ্ভুত কাকতালীয় মিল হয়তো পরিকল্পিত ছিল না, কিন্তু তাঁর বিদায় যে মেক্সিকো ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
অবসরেও ইতিহাস লিখলেন ওচোয়া! মেক্সিকোর এই গোলকিপার কেন মেসি, রোনাল্ডোদের সমতুল্য জানেন?