ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। বহু বাসিন্দার দাবি, ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগেই তাঁদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ভূমিকম্প হওয়ার আগেই কীভাবে এই তথ্য জানতে পারল গুগল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফল। বর্তমানে অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে অ্যাক্সেলেরোমিটার নামে একটি সেন্সর থাকে। সাধারণত এই সেন্সর ফোনের স্ক্রিন ঘোরানো বা নড়াচড়া শনাক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে একই সঙ্গে এটি মাটির অস্বাভাবিক কম্পনও শনাক্ত করতে সক্ষম।

ভূমিকম্পের সময় প্রথমে উৎপন্ন হয় ‘পি-ওয়েভ’ বা প্রাথমিক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের গতি খুব বেশি হলেও এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষমতা তুলনামূলক কম। এর কিছু সময় পরে আসে ‘এস-ওয়েভ’ বা সেকেন্ডারি তরঙ্গ, যা সাধারণত ভবন ধস ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী। এই দুই তরঙ্গের গতির পার্থক্যই গুগলের সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তোলে।

যখন কোনও এলাকায় একাধিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন একই সময়ে ‘পি-ওয়েভ’-এর কম্পন শনাক্ত করে, তখন সেগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগলের সার্ভারে সংকেত পাঠায়। গুগলের অ্যালগরিদম সেই তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারণ করে। এরপর যেসব এলাকায় কয়েক সেকেন্ড পরে ‘এস-ওয়েভ’ পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে, সেখানে থাকা ব্যবহারকারীদের ফোনে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও ঠিক এই প্রযুক্তিই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের ফোনে পাওয়া সেই সতর্কবার্তার স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন। যদিও এই ব্যবস্থা ভূমিকম্পের দিন বা সময় আগে থেকে জানাতে পারে না, তবে কয়েক সেকেন্ডের আগাম সতর্কবার্তাও মানুষের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক সেকেন্ড সময় পেলেও মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন, লিফট ব্যবহার এড়িয়ে চলতে পারেন, গ্যাস বা বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করতে পারেন এবং জরুরি প্রস্তুতি নিতে পারেন। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।