পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি ফের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের উপর আস্থা রাখবে তৃণমূল কংগ্রেস? রাজনৈতিক মহলে এখন তুমুল আলোচনা এই প্রশ্ন ঘিরে। কারণ, সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইপ্যাক সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈন।
সূত্রের খবর, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি নবান্নে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। বৈঠকের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না এলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুমান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
তৃণমূলের সঙ্গে আইপ্যাকের সম্পর্ক বরাবরই চর্চার বিষয়। ২০১৯ সালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলায় প্রবেশ করেছিল আইপ্যাক। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বে সংস্থাটি তৃণমূলের বিপুল জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তবে ভোটের পর প্রশান্ত কিশোর আইপ্যাক ছাড়ার ঘোষণা করেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ে।
গত কয়েক বছরে একাধিক তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বলেছিলেন, “ওসব প্যাক প্যাক বুঝি না, দল আমিই চালাব।” হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্রের মতো অনেকে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ‘টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রির’ অভিযোগও এনেছিলেন।
কিন্তু বুধবারের বৈঠক কি সেই পুরনো দূরত্ব ঘোচানোর ইঙ্গিত? তৃণমূল কি আবারও আইপ্যাকের পরামর্শ মেনে চলবে? এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। দলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, “শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলকে শক্তিশালী করতে রণকৌশলে বদল আনা হতেই পারে।”
এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সংগঠন ঢেলে সাজানো, জনসংযোগ বাড়ানো এবং ভোটের রণকৌশল ঠিক করতেই হতে পারে এই বৈঠক। শেষ পর্যন্ত আইপ্যাক আবার তৃণমূলের পাশে দাঁড়াবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এই বৈঠক যে বাংলার রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
