সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ৭৫ বর্ষপূর্তিতে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, “Disruption is Corruption”। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে এই অপরাধ বা দুর্নীতি কেন? নিজের বক্তব্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তা ব্যাখ্যা করে জানান, লোকসভা বা বিধানসভায় জনগণের কল্যাণকর আলোচনা বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া বা সেই আলোচনা ভন্ডুল করার চেষ্টা অপরাধ বা দুর্নীতির সামিল। জণগনের ভোটে জিতে জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের জন্য সংসদের আলোচনা বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
আজ রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঠিক এই সুরেই বিরোধীপক্ষকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দলের ও ৪২ জন এমপি লোকসভা রাজ্যসভায় আছেন। তারাও বিএ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। আমি তাদের বারবার বলি তোমরা সব আলোচনায় অংশ নেবে। হাউস চালাতে সাহায্য কোরো।” গত গত দুদিন রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে যেভাবে বিরোধীপক্ষ বিজেপি বিধায়করা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ ও কটুক্তি করেছেন তার প্রেক্ষিতেই বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতা উল্লেখ করে মমতা বলেন “আমাদের দেশ সৌজন্যের দেশ। একটা বাচ্চা কাঁচের বোতল ভেঙে দিলে তাকে বকো, আর কেউ যদি দেশটাকে ভেঙে দেয় তাহলে কি তুমি গর্ব করো ? যখন আমরা কোনো চেয়ারে বসি we care for all. চেয়ারের সম্মান করতে হয়। চেয়ার আজ আছে কাল নাও থাকতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই ফের হট্টগোল শুরু অধিবেশন কক্ষে। বিজেপি বিধায়কদের দাবি “হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছেন, আমরা সেই কথা বলবই।” অধ্যক্ষ বিজেপি বিধায়কদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও শ্লোগান সাউটিং চলতে থাকে। বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ বলতে উঠে বলেন, আপনি (মুখ্যমন্ত্রী) বলেছেন সত্যের জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করা যায় না। তাহলে আমি নিশ্চিয়ই আশা করবো আপনি স্বীকার করবেন এই বিধানসভার সদস্য না হয়েও আপনি বিধানসভা ভাঙার কাজে যুক্ত ছিলেন। (তখন আবার চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়)। শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আপনার দলের এক বিধায়ক (হুমায়ূন কবীর) বলেন আমরা ৭০ আপনারা ৩০। আপনাদের (হিন্দু) কেটে ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেবো। কি করেছেন তখন আপনি ? আপনার মেয়র, এই বিধানসভার এক মন্ত্রী (ফিরহাদ হাকিম) বলেছিলেন ধর্মান্তরকরণ এর কথা। তখন আপনি চেয়ারের মর্ম রেখেছেন ? আপনি চেয়ারের মর্যাদা রাখলে আমরাও আপনার চেয়ারের মর্যাদা রাখবো, যদি আপনি সেটা না রাখেন তাহলে আমরাও রাখতে পারবো না।” মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিতে উঠে বলেন “ফিরহাদ হাকিমকে আমি নিজে বলেছি এই ধরনের কথা বলা যাবে না। মদন মিত্র বা হুমায়ূন কবীর যে কথা বলেছেন প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ করেছি। এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এখানে বলা যায় না, তাও বললাম। আমাদের দল অনেক ডিসিপ্লিনড। আজ আপনারা এখানে যা বললেন তার ৯০ শতাংশ হলো ডাহা মিথ্যা।”
