কোনও হুমকির মুখে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না – এমনটাই জানিয়েদিল তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সেদেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানিয়েছে।বিষয়টির সূত্রপাত কিছুদিন আগে। দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েই ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন ট্রাম্প।তিনি ইরানকে নতুন পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু বারবার এমন চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার বার্তা দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে হুমকির মুখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসবে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিয়েছেন, “আপনারা যা খুশি তাই করুন।”
কিন্তু কেন ইরানকে আলোচনায় বসাতে চাইছেন ট্রাম্প? ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারটাই বা কী? আসলে গত বছর মে মাসেই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএর গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয় যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আগের চেয়েও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ইরান। আর এর ফলে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করা হয়।
আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়। ইরান ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। ১১ মে, ২০২৪ পর্যন্ত ইরানের কাছে ১৪২.১ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আগের বারের চেয়ে ২০.৬ কেজি বেশি।যদিও বারবার ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ পশ্চিমী দুনিয়ার অভিযোগ, অসামরিক কাজের জন্য এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কোনও যুক্তিগত কারণ নেই।
এবার ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প নতুন পরমাণু চুক্তি করতে চাপ দিতেই শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত সপ্তাহেই জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানকে কোনও হুমকি দিয়ে আলোচনায় আনা যাবে না। ট্রাম্প প্রশাসনকে নিন্দা করে তিনি জানান, ‘‘সমস্যা সমাধান লক্ষ্য নয়, ওদের উদ্দেশ্য আধিপত্য বিস্তার করা।” তাঁর আরও অভিযোগ, ট্রাম্প আসলে অন্যদের হেয় করতে চান।
ইরানের আরও অভিযোগ তেহরানকে আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি থেকে সেদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং তাদের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। এরই পাশাপাশি পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য ইরানকে চিঠি দিয়ে চাপ বাড়িয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমন পরিস্থিতিতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিয়েছেন যে হুমকির মুখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
