বালোচিস্তানে জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে। পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করেছে এবং বিদ্রোহীদের দমন করা হয়েছে।
তবে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্টো পাকিস্তান সরকারকেই দোষারোপ করছে। তাদের অভিযোগ, আসল সত্য গোপন করতে সরকার মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে, কারণ হাইজ্যাকের সময় বন্দি থাকা ২১৪ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় কোয়েটার রেলস্টেশন থেকে একের পর এক কফিন সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে, এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। বালোচ বিদ্রোহীদের দাবি, সংঘর্ষে নিহত সকলেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য, যাদের মরদেহই সেই কফিনগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিএলএ-র একজন মুখপাত্র সরাসরি পাকিস্তান সরকারকে দায়ী করে বলেন, “এই প্রাণহানির মূল দায় সম্পূর্ণভাবে পাক প্রশাসনের। তারা কখনোই সংলাপের পথে হাঁটেনি, বরং বরাবরই সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার নীতি নিয়েছে এবং এখনও সেই একই অবস্থানে অটল রয়েছে।
১১ মার্চ বোলান গিরিপথ এলাকায় বালোচ বিদ্রোহীরা কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি হাইজ্যাক করে। ট্রেনটিতে ৪৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে সেনা সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে খবর।
উদ্ধার অভিযানে দ্রুত নামতেই পাকিস্তান সেনার সঙ্গে বিদ্রোহীদের তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। এতে অন্তত ২৪ জন পাকিস্তানি সেনা ও ৩৩ জন বিএলএ যোদ্ধার প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার দাবি করে, তারা পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং সকল বন্দিকে মুক্ত করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের দমন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে, প্রশাসনের এসব দাবির সমর্থনে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি, যা পুরো পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়েছে।
বিএলএর অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার তাদের সেনাদের সুরক্ষা নিয়ে উদাসীন এবং সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিদ্রোহীদের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতির সীমা মেনে অভিযান চালালেও সংঘর্ষের জন্য পুরো দায় পাকিস্তান প্রশাসনের। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে তাদের ১২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, যাদের তারা স্বাধীনতার শহীদ হিসেবে সম্মান জানাচ্ছে।
সংঘর্ষের প্রথম দিন রাতে তিনজন বিদ্রোহী নিহত হন, পরদিন আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, মাজিদ ব্রিগেডের পাঁচজন আত্মঘাতী যোদ্ধাও অভিযানের সময় প্রাণ দেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সরকার ও বিদ্রোহীদের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে আসল সত্য কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
Leave a comment
Leave a comment
