সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
পড়শী রাজ্যের ঝাড়খন্ডে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের প্রভাব পড়ল এ রাজ্যেও। ঝাড়খন্ড থেকে পোল্ট্রি মুরগি ঢোকা বন্ধের নির্দেশিকা জারি করল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন জেলায় মুরগির মাংস খাওয়াতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। যেহেতু ঝাড়খণ্ডের একটি অংশে বার্ড ফ্লু ভাইরাস বা আভিয়ন ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে সে কারণেই শুধুমাত্র ভারত সরকারের নির্দেশিকা মেনেই প্রতিবেশী রাজ্য থেকে যাতে পোল্ট্রি মুরগির পরিবহন মুর্শিদাবাদ জেলায় না হয় সেজন্যই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শুধু নির্দেশিকা জারি নয় ঝাড়খণ্ড মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানায় ড্রোন ক্যামেরা বসিয়ে চলছে দেদার নজরদারি। যাতে কোনভাবেই ঝাড়খন্ড থেকে পোল্ট্রি মুরগি এ রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে। উল্লেখযোগ্য ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার পাকুড় গ্রামে এই বার্ড ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনা শুনা মাত্রই সতর্কতার কারণে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন তৈরি করি ঝাড়খণ্ডের পোল্ট্রি মুরগি মুর্শিদাবাদ জেলায় ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মুর্শিদাবাদ জেলার এই পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসনও। শুধু মুর্শিদাবাদ নয় ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সীমানার যোগ রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলার। উত্তরে মালদা সহ পশ্চিমে বীরভূম পশ্চিম বর্ধমান বাঁকুড়ার একাংশ পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম সীমানা লাগোয়া বা খুব কাছেই অবস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার গুলোতেও যাতে ঝাড়খন্ড থেকে কোন সংক্রামিত পোল্ট্রি মুরগি এর রাজ্যে না ঢুকে পড়ে তা নিয়েও চিন্তিত রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতির দিকে সার্বিকভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। যেহেতু বসন্তকালেই ফিবছর বার্ড ফ্লু সংক্রমনের আশংকা থাকে তাই সার্বিকভাবে গোটা রাজ্যে পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনে রাজ্যজুড়েই সতর্কবার্তা জারি করতে হয় কিনা সে ব্যাপারেই এখন পর্যালোচনা করছে রাজ্য প্রশাসন।
