উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে সাত বছরের এক শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, শিশুটির মৃত্যু খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে হয়েছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে। সামনে আসে এক ভয়ংকর বাস্তব। অভিযোগ, নিজের সন্তানের প্রাণ কাড়ার নেপথ্যে রয়েছে তারই বাবা!
হোলির উৎসবের দিনে সাত বছরের শিশুটি প্রতিবেশী শান্তি দেবীর বাড়িতে গিয়েছিল খেলতে। তবে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। অবস্থা দ্রুত গুরুতর হয়ে ওঠে, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।
প্রথমে সন্দেহের চোখ পড়ে প্রতিবেশী শান্তি দেবীর ওপর। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করে পুলিস এবং খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হয়।
তবে তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, তাকে পরিকল্পিতভাবে আগে ধর্ষণ করা হই এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের ঘিরে।
অবশেষে পুলিসের গভীর তদন্তে সামনে আসে আসল সত্য। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে যখন পরিবারের সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, তখন শিশুটির বাবা তাকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানেই নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে শিশুটির প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়।
এরপর, ঘটনা আড়াল করতে এবং তদন্তকারীদের ভুল পথে চালিত করতে, সে খাবারে বিষ মিশে মৃত্যুর গল্প তৈরি করে। এমনকি, নিজের অন্য সন্তানদেরও ভয় দেখিয়ে মিথ্যে কথা বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
তবে, চালাকি কাজে আসেনি। সত্য উদঘাটিত হতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে অভিযুক্ত বাবা। এখন তদন্ত চলছে, কী কারণে এত নির্মমভাবে নিজের সন্তানকে ধর্ষণ ও হত্যা করল, সেই রহস্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
Leave a comment
Leave a comment
