মোহনবাগান এবারের আইএসএলে দারুণ ছন্দে রয়েছে। দলটি শুধু মাঠে নয়, গ্যালারিতেও দর্শকদের অভাবনীয় সমর্থন পাচ্ছে। লিগ-শিল্ড জয়ের দৌড়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি ওড়িশাকে পরাজিত করে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন শিবির। ৮ মার্চ গোয়ার বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করে মোহনবাগান, এরপর শিল্ড তুলে নিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করে দল।
আইএসএলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে মোহনবাগান এখন এশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি ক্লাবের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে, ইস্টবেঙ্গলও উল্লেখযোগ্যভাবে দর্শকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
চলতি আইএসএলে মোহনবাগানের ঘরের মাঠে দর্শকদের বিপুল সমাগম হয়েছে। ১২টি হোম ম্যাচ মিলিয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মোট ৪,২৮,৯৩৩ জন সমর্থক, যা গড়ে প্রতি ম্যাচে ৩৫,৭৪৪ জন দর্শকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
মোহনবাগানের বিপুল দর্শক উপস্থিতি তাদের এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব হিসেবে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে দিয়েছে। এশিয়ায় সর্বোচ্চ গড় দর্শকসংখ্যার বিচারে শীর্ষে রয়েছে ইরানের পার্সেপোলিস, যেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪৩,৩৩৩ জন সমর্থক মাঠে উপস্থিত থাকেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের উরাওয়া রেডস, যাদের গড় দর্শকসংখ্যা ৪৩,১৩৯। তৃতীয় স্থানে রয়েছে চিনের সিডি রংচেং, যেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪০,৮৬৭ জন দর্শক হাজির হন, এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে সাংহাই শিনহুয়া, যাদের গড় দর্শকসংখ্যা ৩৯,৩৮৫।
৮ মার্চ গোয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহনবাগানের হয়ে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল সর্বাধিক, যেখানে গ্যালারিতে ভিড় জমিয়েছিলেন ৬১,৫৯১ জন সমর্থক। তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বের ডার্বিতে, যেখানে মাত্র ২,৫৬৭ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। মূলত নিরাপত্তার কারণে এই ম্যাচটি কলকাতা থেকে সরিয়ে গুয়াহাটিতে আয়োজন করা হয়েছিল, যার প্রভাব দর্শকসংখ্যায় স্পষ্টভাবে পড়েছে।
দর্শক উপস্থিতির বিচারে ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। যদিও তারা লিগ টেবিলে নবম স্থান অর্জন করেছে, তবুও তাদের ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছেন মোট ২,২১,১৬৯ জন সমর্থক। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৮,৪৩১ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছিল প্রথম পর্বের ডার্বিতে, যেখানে ৫৯,৮৭২ জন সমর্থক মাঠে এসেছিলেন।
কেরল ব্লাস্টার্স, যারা গড় দর্শকসংখ্যার হিসেবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, এই মরসুমে বড় ধাক্কা খেয়েছে। কেরল ব্লাস্টার্সের গড় দর্শকসংখ্যা নেমে এসেছে ১৫,৮৯৪-এ, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৪২% কমেছে। সমর্থকদের এমন সাড়া দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে। সাধারণত কোচির স্টেডিয়াম দর্শকে পরিপূর্ণ থাকলেও, দলের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে শেষ দিকের ম্যাচগুলিতে গ্যালারি ফাঁকা পড়ে ছিল।
অন্যদিকে, দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি। তাদের গড় উপস্থিতি বেড়ে হয়েছে ১০,৫২৬, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শিলংয়ে কিছু ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত কাজে আসায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড উল্লেখযোগ্যভাবে দর্শকসংখ্যা বাড়াতে পেরেছে।
বেঙ্গালুরু, ওড়িশা ও গোয়ার ক্ষেত্রে দর্শকসংখ্যায় সামান্য উর্ধ্বগতি দেখা গেছে তুলনামূলকভাবে। অন্যদিকে, আইএসএলে প্রথমবার পা রাখা মহমেডানের ম্যাচগুলোতে গড়ভাবে ৪,০৯৫ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে সামগ্রিকভাবে এই মৌসুমে আইএসএলের দর্শকসংখ্যা ৩.৫% হ্রাস পেয়েছে, যা লিগ কর্তৃপক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
Leave a comment
Leave a comment
