ভারতে রেলপথ শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ট্রেনের উপর নির্ভর করেন। কেউ কাজের প্রয়োজনে, কেউবা স্বল্প খরচে দূরত্ব অতিক্রম করতে, আবার অনেকেই শুধুমাত্র ট্রেন ভ্রমণের প্রতি ভালোবাসার কারণে রেলে যাতায়াত করেন। ভারতীয় রেল দেশের অন্যতম ব্যস্ততম পরিবহন ব্যবস্থা হলেও পরিষেবার মান, সময়নিষ্ঠতা ও যাত্রী সুবিধা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। ট্রেনের দেরি, ভিড় ও পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির কারণে যাত্রীদের অসন্তোষ লুকিয়ে নেই। তবে, এসবের মাঝেও কি ভেবে দেখেছেন, ভারতীয় রেলে ভাড়া কি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় সাশ্রয়ী?
ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতীয় রেলের জেনারেল ক্লাসে ৩৫০ কিলোমিটার ভ্রমণের জন্য একজন যাত্রীর গড়ে ১২১ টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে খরচ হয় ৪৩৫ পাকিস্তানি টাকা, আর বাংলাদেশে এই ভাড়া গড়ে ৩২৩ বাংলাদেশি টাকা। অর্থাৎ, যাত্রীপ্রতি খরচের দিক থেকে ভারতীয় রেল অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
সাধারণ শ্রেণির পাশাপাশি স্লিপার ক্লাসের ক্ষেত্রেও ভারত তুলনামূলক কম খরচে যাত্রী পরিবহন করে। উদাহরণস্বরূপ, হাওড়া থেকে পুরুলিয়া, যা প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরত্ব, সেখানে স্লিপার ক্লাসের ভাড়া পড়ে মাত্র ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ কিলোমিটারের জন্য ভারতীয় রেলে যাত্রীদের গড়ে ৫৯ টাকা ব্যয় করতে হয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের করাচি থেকে রাওয়ালপিণ্ডি পর্যন্ত প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে স্লিপার ইকোনমি ক্লাসে গড়ে ৩৪৫০ পাকিস্তানি টাকা ভাড়া গুনতে হয়, যা প্রতি ১০০ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ২৪৬ টাকা।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (২৫৩ কিমি) পর্যন্ত স্লিপার ক্লাসে ভাড়া পড়ে প্রায় ১৫০ বাংলাদেশি টাকা, অর্থাৎ প্রতি ১০০ কিলোমিটারের জন্য গড়ে ৫৯ বাংলাদেশি টাকা খরচ হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৪২ টাকা।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট, ভারতীয় রেলে দীর্ঘপথের যাত্রা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুবিধা, কারণ কম খরচে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
পাকিস্তানে করাচি থেকে রাওয়ালপিণ্ডি (১৪০০ কিমি) পর্যন্ত স্লিপার ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের দাম ৩৪৫০ পাকিস্তানি টাকা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ কিলোমিটারের জন্য যাত্রীদের গড়ে ২৪৬ টাকা খরচ করতে হয়। ২১ মার্চের বিনিময় হার অনুযায়ী, এই পরিমাণ পাকিস্তানি টাকা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৬ টাকার সমান।
বাংলাদেশের ট্রেন ভাড়ার হিসাবও প্রায় একই ধরনের। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (২৫৩ কিমি) যাওয়ার জন্য স্লিপার ক্লাসে ভাড়া গুণতে হয় ১৫০ বাংলাদেশি টাকা। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ কিলোমিটারের জন্য যাত্রীদের গড়ে ৫৯ টাকা খরচ করতে হয়, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪২ টাকার সমান।
তবে শুধুমাত্র ভাড়ার নিরিখে তিন দেশের মধ্যে তেমন কোনো বড় পার্থক্য না থাকলেও পরিকাঠামো ও আধুনিকতার দিক থেকে ভারতীয় রেল অনেকটাই এগিয়ে। ভারতের রেলপথের বিস্তৃতি যেমন বিশাল, তেমনই নতুন প্রযুক্তির সংযোজনের দিক থেকেও দেশটি দ্রুত উন্নতি করছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সব জায়গাতেই ট্রেন যোগাযোগ সহজ ও উন্নত হয়েছে।
বিশেষত লোকাল ট্রেন ও মেট্রো রেলের মতো সুবিধা ভারতের প্রতিটি বড় শহরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্বল্প খরচে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। এ ধরনের পরিষেবা এখনও বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে, শুধু ভাড়া নয়, পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং যাত্রীসেবার দিক থেকে ভারতীয় রেল প্রতিবেশী দুই দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
