আমেরিকার নামেই এখন দখলের ভূত দেখছে বরফের রাজ্য গ্রিনল্যান্ড।পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড সফর করবেন। শোনামাত্র এ সফরের নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের নেতারা। সূচি অনুযায়ী মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফর হবে ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে ২৯ মার্চ শনিবার পর্যন্ত।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্সের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ঘুরে দেখবেন এবং কুকুরে টানা স্লেজের প্রতিযোগিতা উপভোগ করবেন। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা পরামর্শক মাইক ওলাৎজ ও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের “ব্যক্তিগত সফর”-এর দু মাস পর ফের এই সফর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তী সরকার এই সফর বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন গ্রিনল্যান্ড কিনে নিতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প?
২য় পর্যায়ে ক্ষমতায় এসেই কোনও রাখঢাক না করে প্রাকৃতিক সম্পদে পূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এর পরে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটেকে সঙ্গে নিয়েও গ্রিনল্যান্ড নিজেদের হাতে নেওয়ার কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক মাস আগে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘‘সারা বিশ্বের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার স্বার্থে আমেরিকা মনে করে, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ এই মুহূর্তে অপরিহার্য।’’ তাঁর মতে এই অঞ্চলে চিন এবং রাশিয়ার বড় আছে।এই কাজটি সম্ভব কি না জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প এক সাংবাদিককে জানান, ‘আমার মনে হয় এটা হবে। ১০ মার্চ সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ডে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। তার পরেই আমেরিকার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের।
ট্রাম্পের ইচ্ছে, উষা ভ্যান্সের সফরে জুজু দেখছে গ্রিনল্যান্ড
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই গা জোয়ারি ব্যাপারটা মোটেই ভালচোখে নেয় নি বা নিচ্ছে না পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই দ্বীপের বাসিন্দারা। তাঁরা ট্রাম্পের এ হেন মনোভাবকে সম্প্রসারণবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী বলেই মনে করেন। ড্যানিশ প্রাইম মিনিস্টার মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন যে, ওই দেশ বিক্রির জন্য উপলব্ধ নয়।এই মুহূর্তে ওই ‘স্বশাসিত’ দ্বীপের উপর ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্কের অধিকার আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট ভোটে জয়ী হয়েছে ‘ট্রাম্প-বিরোধী’ মধ্য-দক্ষিণপন্থী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টি। গ্রিনল্যান্ডের সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মিউটে এগেদে এই সফরকে “প্ররোচনা” বলে অভিহিত করে বলেন, গোটা ব্যাপারটাই এখানে অগ্রহণযোগ্য। চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তাদের যাওয়া আটকানো যাবে না, তবে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সঙ্গে দেখা করবে না।
গ্রিনল্যান্ডের এমন সমালোচনার মুখে, হোয়াইট হাউস বলেছে, “এটি গ্রিনল্যান্ডের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষকে জানার এবং একটি কুকুরের স্লেজ রেসে অংশ নেওয়ার জন্য একটি সফর।এটা সম্পূর্ণ সাদামাটা একটি বিষয়।” সফরের আগে, উষা ভ্যান্স গ্রিনল্যান্ডের মার্কিন কনস্যুলেটের মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যাতে তিনি বলেন, তার গ্রিনল্যান্ড সফরের উদ্দেশ্য হল “আমাদের দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতাকে উদযাপন করা”।
ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এই সফরের প্রস্তুতি।ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে দুটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে, যাতে নিরাপত্তা কর্মী ও বুলেটপ্রুফ গাড়ি রয়েছে। ডেনমার্কও প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা জোরদার করতে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানীতে কয়েক ডজন পুলিশ টিম পাঠিয়েছে।
