লন্ডনের বাতাসে এবার কি লাল ঝান্ডার ঝড় উঠছে? তিন বছর আগে যে সংগঠন ভারত ছেড়ে প্রথমবার পা রেখেছিল বিদেশের মাটিতে, আজ তা নিয়ে চর্চার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। ব্রিটেনের ছাত্ররাজনীতিতে কি নতুন মোড় আসতে চলেছে? এমনই নানা প্রশ্নের মাঝে উঠে এসেছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর ইউনাইটেড কিংডম শাখা।
২০২২ সালের ৪ জুন ব্রিটেনে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে এসএফআই-ইউকে। তার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক নিখিল ম্যাথু জানালেন, প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্র ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশের মাটিতে এসে নানা সমস্যায় পড়েন তাঁরা—স্কলারশিপ পাওয়া, বাড়িভাড়া, যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া সবই এক-একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই আমাদের এই সংগঠনের জন্ম।
তবে সম্প্রতি এক বিশেষ ঘটনায় এসএফআই-ইউকে সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে। অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতাকালে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন সংগঠনের সদস্যরা। এরপরই বিতর্কের ঝড় ওঠে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এসএফআই কি সক্রিয় হতে চলেছে? ব্রিটেনে কি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে তারা?
এসএফআই-ইউকের সাধারণ সম্পাদক নিখিল ম্যাথু এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়—আমরা স্বাধীন গণসংগঠন, কোনও রাজনৈতিক দলের অংশ নই। তবে যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা রাস্তায় নামব, প্রতিবাদ করব। ব্রিটেনে আমাদের কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট নেই।
ব্রিটিশ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কি অংশ নিচ্ছে এসএফআই? উত্তরে নিখিল বললেন, হ্যাঁ, আমরা অংশ নিই। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ছাত্রদের অধিকার রক্ষা করা।
ভারতের বাইরে পা রেখে এসএফআই কি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কোনও বার্তা দিতে চাইছে? নাকি এটি শুধুই ছাত্রদের সহায়তার প্ল্যাটফর্ম? একদিকে ব্রিটিশ ক্যাম্পাসের নতুন ছাত্র আন্দোলন, অন্যদিকে ভারতের বাইরে সংগঠনের প্রসার—এসএফআই-ইউকের এই উত্থান নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। এবার দেখার, ভবিষ্যতে ব্রিটেনের ছাত্র আন্দোলনের মানচিত্রে তারা কতটা জায়গা করে নিতে পারে।
