বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। সাম্প্রতিক কিছু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণার পর স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী এপ্রিলের মধ্যেই প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম এক লাখ টাকার ঘর ছুঁতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, তখন স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক সংক্রান্ত ঘোষণার ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়াও স্বর্ণের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে এবং মার্কিন ডলারের মূল্যও অস্থির হতে পারে। সাধারণত, স্বর্ণের দাম এবং ডলারের মূল্য বিপরীতমুখীভাবে চলে। অর্থাৎ, ডলারের মান কমলে স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন মুদ্রার পরিবর্তে স্বর্ণের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়ে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ। স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দর বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শহরে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিছু অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম এক লাখ টাকার কাছাকাছি চলে যেতে পারে।
স্বর্ণের দাম বাড়লে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর প্রভাব পড়তে বাধ্য। বিশেষ করে, যারা বিয়ের মরসুমে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও চাপের মুখে পড়তে পারেন, কারণ চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ইতিবাচক হতে পারে, কারণ স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে লাভের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, মার্কিন শুল্কনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতির ওপর। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতা বলছে, স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে। স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্য এই মুহূর্তে সঠিক সময় হতে পারে, কারণ ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
