গোটা পৃথিবী তাকিয়ে ছিল বা বলা ভাল অপেক্ষায় ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী শুল্ক ঘোষণা করেন সে দিকে। যে দেশ আমেরিকার পণ্যে যতটা শুল্ক চাপিয়ে থাকে, ২ এপ্রিল থেকে সেই দেশের পণ্যে পাল্টা তার উপযুক্ত ‘পাল্টা’ বা ‘পারস্পরিক শুল্ক’ চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই মতই ভারতীয় সময় প্রায় মধ্যরাতের ঘোষণায় নানা দেশের উপর নানা শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে এই ঘোষণা করে ট্রাম্প বলেন, “অনেক দিন ধরে অন্য দেশগুলো আমাদের নীতি ও সুবিধার অপব্যবহার করে আমাদের লুটপাট করেছে। কিন্তু এখন আর নয়। ২রা এপ্রিল এখন থেকে ‘লিবারেশন ডে’ (মুক্তি দিবস) হিসেবে পরিচিত হবে—যেদিন আমেরিকা তার শিল্পকে পুনরায় উদ্ধার করল। আমরা এখন যেসব দেশ আমাদের উপর শুল্ক বসায়, তাদের উপর পারস্পরিক শুল্ক বসাব। রেসিপ্রোকাল মানে হল, তারা আমাদের যা করে, আমরা তাদের তা-ই করব—এটাই সহজ নিয়ম।”
যদিও এই শুল্ক আরোপের তালিকা অনুসারে ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ২০% এবং যুক্তরাজ্যের উপর ১০% শুল্ক আরোপ করেছেন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ও মিত্র। এ ছাড়া, চিনের উপর ৩৪%, ভিয়েতনাম ৪৬%, জাপান ২৪%, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫%, থাইল্যান্ড ৩৬% এবং সুইৎজ্যারল্যান্ডের উপর ৩১% শুল্ক চাপানো হয়েছে।
সোমবার আমেরিকা পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছিল কোন দেশ তাদের উপর কত শুল্ক চাপায়। শুল্কের একটি তালিকা প্রকাশ করে বলা হয় মার্কিনি দুগ্ধজাত পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন দেশে থেকে যাওয়া চালের উপর ৭০০ শতাংশ শুল্ক নেয় জাপান, মার্কিনি কৃষিজাত পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক নেয় ভারত৷ আমেরিকায় তৈরি বাটার ও চিজের উপর ৩০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে কানাডা৷ ওয়াশিংটনের অভিযোগ বিরাট শুল্কের ফলে এই সমস্ত দেশে পণ্য রফতানি প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সমস্যার সমাধানের জন্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ২ এপ্রিল থেকে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক ধার্য করা হবে৷ বিশেষ এই দিনটিকে আমেরিকার লিবারেশন ডে বা মুক্তি দিবস বলে উল্লেখ করেন তিনি৷
সোমবারই অবশ্য ট্রাম্প জানান, তিনি শুনেছেন ভারত মার্কিন পণ্যে শুল্কের হার কমাতে চলেছে। তবে এই বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।তবে দিনের শেষে ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। ভারত সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প নয়াদিল্লির শুল্ক নীতিকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “তাদের প্রধানমন্ত্রী ( নরেন্দ মোদী) সম্প্রতি এখান থেকে গেছেন… তিনি আমার খুব ভাল বন্ধু, কিন্তু আমি তাকে বলেছি, ‘তুমি আমার বন্ধু, কিন্তু তুমি আমাদের সঙ্গে সঠিক ব্যবহার করছ না’। ভারত আমাদের পণ্যের উপর ৫২% শুল্ক ধার্য করে, তাই আমরা তাদের উপর এর অর্ধেক—২৬% শুল্ক বসাব।”
হিসেব মত ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চিনের উপর রেসিপ্রোকাল (পারস্পরিক) শুল্ক ঘোষণা করেছেন। তবে তাঁর দাবি তিনি তাদের প্রতি ‘দয়াশীল’ হয়ে তাদের চার্জের প্রায় ‘অর্ধেক’ হারে শুল্ক বসাচ্ছেন। এগুলোকে “ডিসকাউন্টেড রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ” বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্যের উপর ২৬% এবং চিনের পণ্যের উপর ৩৪% আমদানি শুল্ক বসাবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই শুল্কগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সকল পণ্যের উপর ১০% বেস শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে আরোপিত হবে। তবে, ট্রাম্প শিল্পভিত্তিক কীভাবে এই শুল্ক প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।তবে আমেরিকার এই শুল্ক আরোপের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাতে পারে বিভিন্ন দেশ। আর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হলে মার্কিন অর্থনীতিতে কী রকম প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।তবে জানা গেছে কোনও দেশে কর ছাড়ের আবেদন করলে বা ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই তাতে সাড়া দেবে হোয়াইট হাউস।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
