ক্রমেই কী ঘনিয়ে আসছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ! একদিকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা- ইরান সঙ্ঘাত থেকে শুল্ক যুদ্ধ কী আগামী দিনে পৃথিবীকে টেনে নিয়ে যাবে বড় লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে? এমনই অশনি সঙ্কেত দেখছেন অনেকে। যেমন আগামী দিনের কথা ভেবে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ঋণের কঠোর বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়ার পর জার্মানির সামরিক বাহিনী বিপুল বিনিয়োগের ছাড়পত্র পেয়েছে। কারণ রাশিয়ার আগ্রাসনের জুজু দেখছে জার্মানি। সদ্য সেদেশের শীর্ষ জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রতিরক্ষা খাতে টাকা ঢালা দরকার, কারণ, তাঁর বিশ্বাস রাশিয়ার আগ্রাসন ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাশিয়ার আগ্রাসনের কথা ভেবেই ন্যাটো তার জোটে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনকে যুক্ত করেছে।
যুদ্ধটা রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে হলেও গত প্রায় তিন বছর ধরেই এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে। বিশেষ করে সেইসব বড় অর্থনীতির দেশ যারা ন্যাটোর সদস্য তাদেরই এই যুদ্ধের মাশুল গুনতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। যে দেশগুলো রাশিয়ার নানা পদক্ষেপের ভয়ে আছে তার মধ্যে রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি।
সাক্ষাৎকারে জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ার জানিয়েছে, “আমরা রাশিয়ার হুমকির সম্মুখীন। আমরা পুতিনের হুমকির সামনে। এটি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের যা কিছু করা দরকার, তা–ই করতে হবে।” তিনি সাবধান করে বলেন, মাত্র চার বছরের মধ্যেই এমন একটি আক্রমণের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ন্যাটোকে তৈরি থাকতে হবে।রাশিয়ার বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধেরও অভিযোগ করেছে জার্মানি। হাইব্রিড হামলা হলো একধরনের সাইবার আক্রমণ। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই হামলার মাধ্যমে একটি দেশের আইটি, নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন ডিভাইসে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এই হাইব্রিড যুদ্ধকে অনেকে ‘ছায়া যুদ্ধ’ এর একটি রূপ হিসাবে ব্যাখ্যা করেন। এই যুদ্ধ সাধারণের দৃষ্টির বাইরে ঘটে এবং কখনই এই যুদ্ধের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় না। রাশিয়ার হাইব্রিড যুদ্ধনীতির কথা উল্লেখ করে জেনারেল ব্রুয়ার জানিয়েছেন সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে নাশকতা ও জার্মান সামরিক ক্ষেত্রে অজ্ঞাত ড্রোন পাঠানোর মতো কাজ করছে রাশিয়া।
এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া মেনে নেয়নি। পাশাপাশি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। রাশিয়াতে ২০১১ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সংখ্যক মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে বড় করার লক্ষ্যে সেদেশের ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের এক লক্ষ ৬০ হাজার তরুণকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
জার্মানিও ইতিমধ্যেই সৈন্যের সংখ্যা ২০ হাজার বাড়িয়ে ২ লক্ষ ৩ হাজার করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু জেনারেল ব্রুয়ারের বার্তা, জার্মানির আত্মরক্ষা ও ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমা সম্পূর্ণভাবে রক্ষার জন্য অতিরিক্ত আরও এক লক্ষ সৈন্য প্রয়োজন। ব্রুয়ার জানিয়েছেন রাশিয়া পশ্চিমী দুনিয়ার মত ছকবাঁধা চিন্তা করে না।শান্তিকাল আর যুদ্ধ—এভাবে ভাবার সুযোগ নেই।তাঁর মনে হয় তাঁরা ব্যাপক বিপদে আছেন।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
