ইকুয়েডরে ফের ক্ষমতায় এলেন রক্ষণশীল দলের ড্যানিয়াল নোবোয়া। রবিবারই ভোট হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে।বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী লুইসা গঞ্জালেজকে হারিয়ে এবার ফের ক্ষমতা দখল করতে চলেছেন নোবোয়া।ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যেই ইকুয়েডরের নির্বাচনী কর্তারা প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়াকে এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। রোববার ৯২ শতাংশ ভোট গণনা হওয়া পর্যন্ত ৫৫ দশমিক আট শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি।
২০২৩ সালেও লুইসা গঞ্জালেজকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে বসেন নোবোয়া। এবারে ফের হারের পরে লুইসা গঞ্জালেজ দাবি করেছেন যে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ইকুয়েডরের ইতিহাসে এটি কুৎসিততম ভোট জালিয়াতির ঘটনা।” তবে এর জন্য কোনো প্রমাণ তুলে ধরতেপারেননি তিনি। শেষ পাওয়া খবরে এখনো পর্যন্ত ৪৪ দশমিক এক শতাংশ ভোট পেয়েছেন লুইসা।এই ফলাফল মেনে নেবেন না এমন দাবি তুলে জাতীয় পর্যায়ে পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন এক সময়ে যখন দেশটি মাদক কোকেন ব্যবসা ঘিরে ব্যাপক হিংসতার সম্মুখীন। ইকুয়েডরে খুন-জখম- হত্যার হার লাতিন আমেরিকায় এখন সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে একটি, যা ভোটারদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল। এ বছরের প্রথম দুই মাসে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলি স্থানীয় সদস্যদের সঙ্গে কাজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের লাভজনক পাচার রুট দখলের লড়াইয়ে অনেক শহরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
২০২৩ থেকে ইকুয়েডরে কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকা পালন করে চলেছেন ন্যাশানাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন পার্টির ৩৭ বছর বয়সী নোবোয়া।তিনি ইকুয়েডরের অন্যতম ধনী ব্যক্তির সন্তান,যিনি মাত্র দুই বছর আগে রাজনীতিতে পা রেখেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইকুয়েডরের সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর জরুরি নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতায় এসেই নিজেকে তিনি এক কঠোর অপরাধবিরোধী নেতার রূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন।বারবার জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং ড্রাগ চক্র ও কারাগারে হিংসা দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। তাঁর সরকার একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে—এর মধ্যে আছে একটি নতুন সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কারাগার নির্মাণ এবং ইকুয়েডরের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা।
নোবোয়ার পুনর্নির্বাচিত হওয়া মানে হল তিনি তাঁর কথিত ‘গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধবিরোধী যুদ্ধ’ চালিয়ে যাবেন। তিনি মার্কিন সামরিক ঠিকাদারি সংস্থা ব্ল্যাকওয়াটারের প্রতিষ্ঠাতা এরিক প্রিন্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন, যা নিয়ে বিরোধীরা তোপ দেগেছেন। তাঁদের দাবি এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার বিপজ্জনক নজির।
সমীক্ষা বলছে ইকুয়েডরবাসীর কাছে এবারের ভোট কোনো নেতাকে বেছে নেওয়ার ব্যাপার ছিল না, বরং তা ছিল কাউকে প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপার। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল নিরাপত্তা। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর এখনো পর্যন্ত ১,০০০-র বেশি মানুষ খুন হয়েছে। নোবোয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী লুইসা গঞ্জালেজ সামাজিক বিনিয়োগ ও হিংসা রুখতে পদক্ষেপের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। তিনি বিদেশি সেনা উপস্থিতির বিরোধিতা করেন এবং ইকুয়েডরের ন্যায় মন্ত্রণালয় পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নিরাপত্তার ইস্যু এতটাই জোরালো ছিল যে তার পুরোটাটাই সমর্থন হিসেবে গেছে নোবোয়ার ঝুলিতে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
