ওমানে প্রথম দফার আলোচনার ইতিবাচক সাড়া মেলার পরেও ফের ইরানকে সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ওমানে পরমাণু চুক্তি নিয়ে তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক’ ও ‘গঠনমূলক’ হয়েছে বলে জানায়। রোমে শনিবার দ্বিতীয় দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আমেরিকার অভিযোগ পরমাণু বোমা তৈরির পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ইরান।গত বছর মে মাসেই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএর গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয় যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আগের চেয়েও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ইরান।আর এর ফলে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়।ইরান ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। ১১ মে, ২০২৪ পর্যন্ত ইরানের কাছে ১৪২.১ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আগের বারের চেয়ে ২০.৬ কেজি বেশি।যদিও বারবার ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও আমেরিকার সঙ্ঘাত আজকের নয়।২০১৫ সালে বারাক ওবামার জমানায় ইরানের সঙ্গে তিন বছরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তির ফলে শুধুমাত্র পরমাণু বিদ্যুতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে পারত ইরান, পাশাপাশি ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি ফিরে পায় তারা। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেই এই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প।দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে আবার কড়া তেহরান বিরোধী অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস।আমেরিকা চাইছে নতুন করে পরমাণু সমঝোতা করতে। তবে তেহরানের অভিযোগ, নিরস্ত্রীকরণের অজুহাতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ‘কোপ’ বসাতে চাইছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল।তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্প্রতি বলেন যে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য আলোচনা বা সমস্যা সমাধান করা নয়, গুন্ডামি করা বা অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করা।
এই পরিস্থিতিতে ওমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে একধাপ এগিয়েছে ইরান।ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ ওমানে উপস্থিত ছিলেন।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে পরমাণু অস্ত্রের দিকে ছোটার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তার কার্যক্রম থেকে সরে না আসে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে তিনি পিছপা হবেন না। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ” ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে। তারা পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না।” তারা পরমাণু অস্ত্র চায় না – ইরান ক্রমাগতই এমন দাবি করে এলেও ট্রাম্পের দাবি তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির ‘প্রায় কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে।
শনিবার কাতারের রাজধানী ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৈঠকে অংশ নেয় ইরান। এদিকে ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর মস্কো যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি।ওই বৈঠকের বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করতেই মূলত মস্কো যাচ্ছেন তিনি। সোমবার তেহরানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আরাঘচি এ সপ্তাহের শেষ দিকে মস্কো সফরে যাবেন।জানা গেছে, আরাঘচি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে দেখা করবেন। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া ও চিন সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
