গোটা পৃথিবীজুড়ে ট্রাম্প ট্যারিফের ধাক্কার নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ফের বিশাল শুল্ক চাপানোর পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে সৌর পণ্য আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে,যার হার দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৩,৫২১% পর্যন্ত। এই নতুন শুল্ক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগে থেকে আরোপিত ১০% শুল্কের অতিরিক্ত হবে।
এই নতুন ঘোষণার পিছনেও রয়েছে সেই চিন।দেখা গেছে যে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সৌর সংস্থাগুলো চিনের ভর্তুকির অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে এবং মার্কিন বাজারে অতি সস্তায় সে সব পণ্য মজুত করছে। আমেরিকান উৎপাদকদের অভিযোগ ছিল যে ওই দেশগুলিতে অবস্থিত চিনা কোম্পানিগুলো কৃত্রিমভাবে কম দামে সৌর কোষ ও প্যানেল মার্কিন বাজারে বিক্রি করছে। বাইডেন প্রশাসন গত বছর আমেরিকান অ্যালায়েন্স ফর সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং ট্রেড কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করে, যেখানে ফার্স্ট সোলার, হানওয়া কিউ সেলস ও মিশন সোলার এনার্জি এলএলসির মতো কোম্পানিগুলো রয়েছে।
তাদেরকে জব্দ করতেই বিপুল পরিমাণ ট্যারিফ চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন পারস্পরিক শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তার পরই দুনিয়া জুড়ে হু-হু করে নামতে শুরু করে বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের সূচক। বাদ যায়নি আমেরিকাও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে সব দেশকে ৯০ দিনের সময় বাড়তি সময় দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ব্যতিক্রম একমাত্র চিন।
এখন পর্যন্ত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিন থেকে আমদানি করা পণ্যে ১৪৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। জুলাই পর্যন্ত অন্যান্য দেশগুলোর উপর ১০% শুল্ক কার্যকর রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে যে নতুন শুল্ক আগের শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হলে, কিছু চিনা পণ্যে শুল্কের হার ২৪৫% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর জবাবে চিন মার্কিন পণ্যে ১২৫% শুল্ক আরোপ করেছে এবং “শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার” হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এবার মার্কিন ঘোষণায় কম্বোডিয়া থেকে আমদানি করা সৌর পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৩,৫২১% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের কোম্পানিগুলোর উপর ৩৯৫.৯%, থাইল্যান্ডের কোম্পানিগুলোর উপর ৩৭৫.২% এবং মালয়েশিয়ার জন্য সারাদেশে ৩৪.৪% শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ যে চিনা সৌর কোম্পানিগুলো সিস্টেমকে ঠকিয়েছে, আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং আমেরিকান শ্রমিকদের কাজ হারাতে বাধ্য করেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে গত বছর ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১২.৯ বিলিয়ন ডলারের সৌর সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এই অবস্থায় আমেরিকান উৎপাদকদের দাবি ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির ফলে তারা অনেক সুবিধা পাবে।
