রাজনীতির সমীকরণে নয়া ইঙ্গিত খুঁজছে রাজনৈতিক মহল
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ পাশাপাশি একই সোফায়। হালকা আলোচনা বলা ভালো কিছুটা খুনসুটি সুরে দুজনের আলাপচারিতা। আড্ডায় উঠলো বিধায়ক দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিধানসভায় আড্ডার প্রসঙ্গ। দুজন দুজনের কুশল বিনিময় সঙ্গে শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিলেন। মন্দিরের নির্মাণশৈলী এবং গোটা মন্দির প্রাঙ্গণের সজ্জা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বয়সী প্রশংসা করলেন দিলীপ। ঘরে উপস্থিত মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের সঙ্গেও হালকা মেজাজে কথা হলো দিলীপ ঘোষের। এরপর সবাইকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে একান্তে বৈঠক মমতা-দিলিপের। অবশ্যই সঙ্গে রইলেন রিংকু মজুমদার । যদিও উপলক্ষ দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন। মমতা দিলীপের এই একান্ত আলাপচারিতা কি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে নয়া সমীকরণ? ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
বুধবার বিকেলে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনী পর্ব সেরে কলকাতায় ফেরার তোর যোগ করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিপ্যাড এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন মমতা। আচমকাই ব্যাক গিয়ার, ফের মন্দির প্রাঙ্গণ এর কাছে নিজের সরকারি অতিথি নিবাসে ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী। কানে ফোন নিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢুকে গেলেন নিজের বসার ঘরে। কেউ ঘরে ঢুকবে না নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। ইতিমধ্যেই মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছেছেন সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাকে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরিয়ে দেখান। জগন্নাথ দর্শন করেন ঘোষ দম্পতি। তারপরেই ধীরে ধীরে সরকারি অতিথি নিবাসে মমতার ঘরে ঢুকলেন দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু মজুমদার। যাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন গৃহকর্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতিমধ্যেই গুঞ্জন উঠেছে। কিছুদিন ধরেই চর্চাও চলছে রাজনৈতিক মহলে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক হয়েও ৬১ বছরে পৌঁছে নিজের আদর্শ নিজেই ভেঙে বিয়ের পিঁড়িতে টোপর মাথায় বসেছেন। তখনই প্রশ্ন ছিল, সাংসারিক প্রয়োজনে বিয়ে করলেন বটে তবে রাজনৈতিক আদর্শ ভেঙে এই বিয়ের কি অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে? বরাবরের স্পষ্ট বক্তা দিলীপ ঘোষ সেদিন এই প্রশ্নের উত্তর সযত্নে এড়িয়ে গিয়ে বরং জানিয়েছিলেন রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা। আজ জগন্নাথ মন্দিরে যে ছবিটা প্রকাশ্যে এলো কাল সকালেই ইকো পার্কে গেলেই অনিবার্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে দিলীপ ঘোষকে। তাহলে কি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সেনানি এবার ঘাসফুলের সৈনিক? অবশ্যই সময় উত্তর দেবে।
