লাহোরের সেনাঘাঁটিতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বসানো হয়েছিল ‘এইচকিউ-৯পি’। পাক সেনার সদর দফতর রাওয়ালপিন্ডিতেও বসেছিল চিনের তৈরি এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’। ইসলামাবাদের অলিতে গলিতে কান পাতলেই তখন শোনা যেত, এই ‘এইচকিউ-৯পি’ দিয়ে কী ভাবে অনায়াসে ঘায়েল করা যাবে আকাশ পথে ভারতের যাবতীয় আক্রমণ। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, ভারতের হালকা ধাক্কায় খড়কুটোর মতো স্রেফ উড়ে গেল সে! যা দেখে পাক সেনাকর্তাদের পথে বসার দশা।
অপারেশন সিঁদুর শুরু করার আগে বেশ কিছুদিন সময় নিয়েছিল ভারত। সেই সময় যত্ন করে তৈরি করা হয়েছিল গোটা পরিকল্পনা। পাকিস্তানের কোথায় কী সামরিক কাঠামো আছে, কার কত পাল্লা— সব ছকে ফেলেছিল ভারত। পরিকল্পনার বহর এমন ছিল যে, পাকিস্তান কী পদক্ষেপ করতে পারে তা আঁচ করে তার পরের পাঁচটি ধাপ আগেই তৈরি রাখা হয়েছিল। তার পর শুরু প্রত্যাঘাত। যার কূলকিনারা খুঁজে পায়নি ইসলামাবাদ। আর এই কাজে ভারতের সহায় হয় রুশ আর ইহুদি মুল্লুকে তৈরি দুই ব্রহ্মাস্ত্র। একটি হামলা করতে, অন্যটি হামলা এলে তা রুখতে।
লাহোরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রথমেই চুরমার করে দেয় ভারত। ব্যবহার করে ইজরায়েলে তৈরি ড্রোন ‘হারোপ’। এ ছাড়াও ওই ড্রোন দিয়ে একাধিক শহরকে নিশানা করে ভারতীয় বাহিনী। তালিকায় ছিল করাচি, বহাওয়ালপুর, সিয়ালকোট এবং রাওয়ালপিন্ডি। ‘ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ বানিয়েছে এই ‘হারোপ’। কৌশলগত হাতিয়ার হিসাবে এর ব্যাপক ব্যবহার করে থাকে ইজরায়েল। ২০০৯-এর সেপ্টেম্বরে মানববিহীন এই ড্রোনকে সম্ভারে শামিল করে বায়ুসেনা। খরচ হয়েছিল ১০ কোটি ডলার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে ১০টি ‘হারোপ’ ড্রোন সরবরাহ করে ইজ়রায়েল। এক দশকের মধ্যে তার সংখ্যা বেড়ে হয় শতাধিক। এই সুইসাইডাল ড্রোনের মূল ইউএসপি হল, কয়েকশো কিলোমিটার দূরে বসে নির্ভুল ভাবে চালনা করা যায় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না করা পর্যন্ত তা বার বার হামলা চালাতে পারে। নজরদারি চালানোর পাশাপাশি নিজে থেকে উড়ে গিয়ে আঘাত হানার ক্ষমতাও রয়েছে এই অত্যাধুনিক ড্রোনের। ২০১৬ ও ২০২০ সালের আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে নাগর্নো-কারাবাখকে নিয়ে হওয়া যুদ্ধে নিজের জাত চিনিয়েছে এই সুইসাইডাল ড্রোন।
আক্রমণের পর এ বার রক্ষণ। ইহুদি ড্রোন যদি হয় বাঘা তেঁতুল তাহলে ‘এস- ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ হল বুনো ওল। রাশিয়ার তৈরি এস- ৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ব্যবস্থাগুলোর অন্যতম। ৬০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে অনুসরণ করতে এবং ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হুমকি প্রতিহত করতে পারে অনায়াসে। ভারত এখন পর্যন্ত চারটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে—এর একটি পাঠানকোটে মোতায়েন করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবকে রক্ষা করার জন্য, এবং আর একটি রাজস্থান ও গুজরাটের কৌশলগত এলাকাগুলোকে কভার করছে। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের ড্রোন এবং মিসাইল হামলা প্রতিহত করেছে রাশিয়ার ‘এস- ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’। কার্যকারিতা বিচার করে আদর করে একে ডাকা হয় ‘সুদর্শন চক্র’। বুধবার রাত এবং বৃহস্পতিবার রাত— পাকিস্তানের দিক থেকে ছোঁড়া সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে এর সামনে। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর রাশিয়ার সঙ্গে এস- ৪০০ নিয়ে চুক্তি সাক্ষর হয়। এস- ৪০০ ভারতের বহরে যুক্ত হওয়ায় ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আরও পোক্ত। সব মিলিয়ে, রুশ-ইজরায়েল যুগলবন্দীতেই ভারত নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল পাকিস্তানকে। আর ‘চিনা মাল’ কিনে মাথায় হাত পাক সেনাকর্তাদের।
