স্নিগ্ধা চৌধুরী
ছয় বছর ধরে অস্বীকার, সন্দেহ ও চাপা ক্ষোভের পর অবশেষে মুখ খুলল পাকিস্তান। পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা নিয়ে এবার সরাসরি স্বীকারোক্তি দিল সে দেশের বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। দীর্ঘদিন পাকিস্তান সরকার এই হামলার সঙ্গে নিজের দেশের যোগ অস্বীকার করে এসেছে।
তবে শনিবার ইসলামাবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল, এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের ট্যাকটিক্যাল ব্রিলিয়ান্স পুলওয়ামায় দেখাতে চেয়েছিলাম।”
এই মন্তব্যে কার্যতই প্রকাশ্যে এল বহুদিনের গোপন সত্য। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই প্রথম সরাসরি ইঙ্গিত দেওয়া হল যে, পুলওয়ামা হামলা শুধুমাত্র ‘জঙ্গি কার্যকলাপ’ ছিল না, বরং রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে পরিচালিত পরিকল্পিত হামলা।
পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এবং নৌবাহিনীর মুখপাত্রও। আওরঙ্গজেব আরও জানান, “আমাদের সীমান্ত, আকাশসীমা বা নাগরিকদের উপর কেউ হামলা চালালে, তার জবাব আমরা দেবই। পুলওয়ামা ছিল তার একটি স্পষ্ট বার্তা।”
এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তি শুধু পুরনো ক্ষতের উপর নুন ছিটোনো নয়, ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কে বড় ধাক্কা আনতে পারে।
ভারতের তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা একে ‘গুরুতর প্রমাণ’ বলেই বিবেচনা করছেন।
সামরিক কৌশল না মানবিক বিপর্যয় পুলওয়ামা কি শুধুই ট্যাকটিক্যাল? উঠছে নয়া প্রশ্ন।
