দেশের মাটিতে তাদের রাজনৈতিক কাজকর্ম নিষিদ্ধ হলেও লন্ডনে কর্মকাণ্ডে সামিল হতে দেখা গেল হাসিনার দল আওয়ামী লিগকে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফর ঘিরে বিক্ষোভে সামিল হচ্ছে তারা। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী চার দিনের সরকারি সফরে ইউনূস লন্ডনে পৌঁছনোর পরই একদল প্রবাসী তাঁকে স্বাগত জানালেও অনেকেই বিক্ষোভ দেখায়।
বিডিনিউজটয়েন্টিফোরডটকমের তথ্য অনুযায়ী লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে ইউনূস ওঠায় তার সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ দেখায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আওয়ামী লিগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা। প্রধান উপদেষ্টার লন্ডনে থাকার পুরো সময় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তারা। লন্ডনে প্রকাশ্যে আসা আওয়ামী লিগের নেতাদের মধ্যে দেখা গেছে সুনামগঞ্জ–১ এর প্রাক্তন সংসদ রণজিত সরকার এবং হবিগঞ্জ–৩ আসনের প্রাক্তন সংসদ মো. আবু জাহিরকে। সিলেট মহানগর আওয়ামী লিগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সরকারকেও প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা যায়। এছাড়াও প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লিগের নেতা ও কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লিগ সরকারের এবং বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। অস্থির পরিস্থিতির জেরে বাংলাদেশ ছাড়েন বেশ কয়েকজন আওয়ামী লিগের নেতা ও কর্মী। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী এর পর গত বছর এবং চলতি বছরের শুরুতে আওয়ামী লিগের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মেয়রকে লন্ডনে প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
ব্রিটিশ কিং চার্লস দ্য থার্ডের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে ব্রিটেনে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। সফরে তিনি বাকিংহাম প্যালেসে কিং চার্লসের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁর হাত থেকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন। এছাড়াও ১১ জুন বুধবারই ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। আগামী ১৩ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সফর শেষে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ১৪ জুন বাংলাদেশে ফিরবেন।
এদিকে ব্রিটেনে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কালেরকন্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী রিফর্ম বাংলাদেশের নেতাও কর্মীরা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে ইউনূসের বিরুদ্ধে যারা ব্রিটেনে ছাত্র-জনতা ও শিশু হত্যায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের ছবি, ভিডিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ভিডিও দেখে সবাইকে চিহ্নিত করে তাদের নাম, ঠিকানা দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাদের গ্রেফতার করা হবে। রিফর্ম বাংলাদেশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা লন্ডনে থেকে সব তথ্য সংগ্রহ করছে।
Leave a comment
Leave a comment
