যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ফের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিল। আগের নির্দেশগুলি কার্যকর করা হয়েছে কি না, তা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট আকারে জানাতে হবে বলে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দেয় বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতে এদিন মামলার শুনানিতে আইনজীবী জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হোস্টেলের নিরাপত্তা ঘিরে এখনও পর্যন্ত ৩৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে ২৩টি ক্রিমিনাল ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত মামলা। র্যাগিং সংক্রান্ত ১টি মামলা, ভাঙচুরের ৪টি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে দাবি। এমনকি রাজ্যপালকেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠে আসে শুনানিতে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভাইস চ্যান্সেলর নেই, তাই এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক হচ্ছে না, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, “ভাইস চ্যান্সেলরের বিষয়টা এখন কোথায়? সুপ্রিম কোর্টে? তাহলে প্রো-ভিসি কি দায়িত্ব নিতে পারেন না?” আদালত জানিয়ে দেয়, ভাইস চ্যান্সেলর না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় এড়ানো চলবে না।
আইনজীবী বলেন, “এবার যেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দায় না ওঠে, সেটাও দেখতে হবে।”
সব শুনে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে আগের নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে, তার লিখিত রিপোর্ট দিতে হবে। এরপরেই হবে পরবর্তী শুনানি।
