বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযোগ আনল ভলোদিমির জেলেনস্কির দেশ ইউক্রেন। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে যে কিয়েভের অভিযোগ অনুযায়ী রাশিয়ার দখল করে নেওয়া ইউক্রেনের বেশ কিছু অঞ্চল থেকে তুলে আনা গম, বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি করছে। সেই আমদানি বন্ধ করতে ইউক্রেন উদ্যোগী হলেও ঢাকা থেকে তার কোনও সদুত্তর মেলে নি।এই নিয়ে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাতে চলেছে।
গম উৎপাদনের দেশ হিসেবে বিখ্যাত রাশিয়া ও ইউক্রেন। ইউক্রেনের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে রাশিয়া। আর এতেই ইউক্রেনের বহু জায়গা রাশিয়া দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ কিয়েভের।তাদের দাবি যাতে শনাক্ত করা না যায় সেজন্য রাশিয়া তাদের দখল করে রাখা এলাকা থেকে পাওয়া গম নিজেদের উৎপাদনের সঙ্গে মিশিয়ে রপ্তানি করছে।রাশিয়ান বন্দর থেকে দেড় লাখ টনের বেশি সেই গম বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। ডয়েচে ভেলে বাংলার খবর অনুযায়ী ইউক্রেনের দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রদূত একে ‘অপরাধ’ বলে ব্যখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি এই অভিযোগ প্রমাণ হলে নিষেধাজ্ঞা কেবল আমদানি করা প্রতিষ্ঠান নয়, সেই সব সরকারি কর্তাদের বিরুদ্ধেও জারি হতে পারে।এ বিষয়ে একাধিকবার ঢাকাকে কূটনৈতিকভাবে সতর্ক করা হলেও তার কোনও জবাব মেলেনি বলে দাবি করেছে কিয়েভ।বলা হয়েছে এই ২০২৫ সালেই চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের কাছে।এইচটির খবর অনুযায়ী ওই চিঠিতে বলা হয়েছে যে রাশিয়ার কাভাকাজ বন্দর থেকে রওনা হওয়া জাহাজে থাকা ১৫০,০০০ টনের শস্য মূলত চুরি হওয়া শস্য। আর এই শস্য না নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে অনুরোধ করে ইউক্রেন।তাদের দাবি, এসব গমের আমদানি কেবল অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর নয়, বরং মানবিক সংকটও সৃষ্টি করছে।
যদিও বাংলাদেশ ইউক্রেনের এই দাবি অস্বীকার করেছে।ডয়েচে ভেলের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের দাবি যে তারা রাশিয়ার দখল করা অঞ্চল থেকে আসা গম আমদানি করার অনুমতি দেয় নি বা কোনো চুরি করা গম নেয়নি।বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রকের এক মুখপাত্র সংবাদসংস্থাকে এই কথা জানিয়েছে।এদিকে রাশিয়াও তাদের সমর্থনে যুক্তি সাজিয়ে বলছে যে ইউক্রেনের থাকা জায়গা এখন রাশিয়ার অধীনে।তাই সেখান থেকে কৃষিপণ্য নেওয়াকে ‘চুরি’ বলা যায় না।
