হরিয়ানার রাজ্যপাল হিসাবে মনোনীত হলেন অসীম ঘোষ। আজ সোমবার একাধিক রাজ্যের রাজ্যপাল এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নিয়োগ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু’র তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। যেখানে হরিয়ানার রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব বুঝে নেবেন হাওড়ার ছেলে অসীম ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, এমনকী বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসাবেও দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব সামলেছেন। শুধুই কি তাই?
কে এই অসীম ঘোষ?
১৯৪৪ সালে অসীম ঘোষের জন্ম হাওড়ায়। বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা। কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন অসীম ঘোষ। দীর্ঘসময় অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্তও ছিলেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী। ১৯৬৬ সাল থেকে ২০০৪ পর্যন্ত, প্রায় ৩৮ বছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়াও তিনি বছর ধরে ইউজিসির টিচার্স ফেলো হিসাবেও দায়িত্ব সামলেছেন।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল সরাসরি বিজেপিতে যোগ। অসীম ঘোষের রাজনৈতিক দক্ষতা নজর কেড়েছিল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই বঙ্গ বিজেপির বুদ্ধিজীবী সেলের সদস্য হয়ে যান। এমনকী ১৯৯৬ সালে বঙ্গ বিজেপিতে সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব ওঠে অসীম ঘোষের কাঁধে। এখানেই শেষ নয়, রাজ্য সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব সামলান। ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে এই গুরু দায়িত্ব পান।
তবে ১৯৯৯ সালে বঙ্গ বিজেপির ব্যাটন অসীম ঘোষের কাছে ওঠে। তপন শিকদারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করা হলে বিজেপির ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারনে রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়তে হয়। সেই সময় প্রাক্তন অধ্যাপক রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পান। যদিও তাঁর এই পদ পাওয়া ঘিরে তৎকালীন সময়ে বঙ্গ বিজেপিতে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। কার্যত দুটি ভাগ হয়ে যায়। যদিও আরএসএসের একটা সমর্থন ছিল তপন শিকদার ঘনিষ্ঠ এই নেতার দিকে।
আরও পড়ুন
২০০২ পর্যন্ত বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন তিনি। শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন অসীমবাবু। জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ত্রিপুরায় দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সদস্যও ছিলেন প্রাক্তন এই বিজেপি নেতা। এরপর সেভাবে বিজেপিতে না দেখা গেলেও সম্প্রতি ফের একবার অসীম ঘোষকে বঙ্গ বিজেপিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছিল।
দলের নানা কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছিল। এমনকী নয়া রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে এদিন গোয়ার রাজ্যপাল হিসেবে পিএ গজপতি রাজুর নাম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে কবীন্দ্র গুপ্তের নাম ঘোষণা হয়েছে লাদাখের উপরাজ্যপাল হিসেবে।
