ফের এনকাউন্টার। ফের খতম মোস্ট ওয়ান্টেড মাফিয়া। স্থান সেই যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। উত্তরপ্রদেশে মাফিয়ারাজের শিকড় উপড়ে ফেলতে রবিবার রাতে শুরু হয় পুলিশি অভিযান। মুজফফরনগর জেলায় পুলিশ সঙ্গে যৌথ অভিযানে নাম এসটিএফ। এসটিএফের এনকাউন্টারে খতম কুখ্যাত মুখতার গ্যাংয়ের দুই সদস্য। মৃতরা হলেন, সঞ্জীব জিভা ও মুখতার গ্যাংয়ের শার্প শুটার শাহরুখ পাঠান। পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড শাহরুখ পাঠানের মাথার দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় ছাপরা থানা এলাকায় রয়েছে এই দুই দুষ্কৃতী। সেই খবরের ভিত্তিতে রবিবার রাতে অভিযান চালায় মিরাট পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ছাপরা থানা এলাকায় বিজোপুরা ক্রসিংয়ের কাছেই দেখা যায় শাহরুখ পাঠানের গাড়ি। পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা করে জিভা ও শাহরুখ। কিন্তু ততক্ষনে তাদের গাড়ি ঘিরে ধরেছে পুলিশের দল। বেগতিক দেখে পুলিশের ওপর গুলি ছুড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে আততায়ীরা। পুলিশের পালটা জবাবে মৃত্যু হয় জিভা ও শাহরুখের। পুলিশের দাবি, মৃতদের মধ্যে জিভা ওই অঞ্চলের কুখ্যাত গ্যাংস্টার ও শাহরুখ মুখতার গ্যাংয়ের শার্প শুটার হিসেবে কাজ করত। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি পিস্তল, ৬০টি কার্তুজ ও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এনকাউন্টারে নিহত অপরাধীদের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। অতীতে ডাকাতি ও পুলিশ হেফাজতে খুনেরও অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। এই দুই অপরাধীর মৃত্যু বড় সাফল্য হিসেবে মনে করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, একসময় উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির দোর্দন্ড প্রতাপ নেতা তথা গ্যাংস্টার মুখতার আনসারিকে নিয়ে তোলপাড় হয়ে ওঠে। উত্তরপ্রদেশের মউ সদর বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে গাজিপুরের বিধায়ক কৃষ্ণানন্দ রাই সহ ৭ জনকে খুনের অভিযোগ ওঠে মুখতারের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় ১০ বছরের কারাবাস হয় তাঁর। পাশাপাশি অস্ত্রের ভুয়ো শংসাপত্র মামলায় মাফিয়া রাজনীতিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরও সাজা শোনায় আদালত। অন্তত ৬০টি মামলা চলছিল এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে। মামলা চলাকালীনই মার্চ মাসে জেলে মৃত্যু হয় মুখতারের। সেই মৃত্যু নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। মুখতারের পরিবার তরফে অভিযোগ করে বলা হয় জেলে স্লো পয়জন দেওয়া হচ্ছিল মুক্তারকে। তবে ময়নাতদন্তে বা পুলিশের রিপোর্টে এমন কোন তথ্য উঠে আসেনি।
