চিরতরে ঘুমের দেশে ‘স্লিপিং প্রিন্স’। গোটা বিশ্ব তাঁকে ‘স্লিপিং প্রিন্স’ নামেই চেনে। ৩৫ বছর বয়েসে মৃত্যু হল সৌদির প্রিন্স আলী ওয়ালিদ বিন খালিদ বিন তালাল আল সাউদের। প্রায় ২০ বছর আগে এক ভয়ঙ্কর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন প্রিন্স। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে কোমায় চলে যান তিনি। সেই থেকে তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।
গল্ফ নিউজ সূত্রে খবর, ১৯৯০ সালে জন্ম হয় প্রিন্স আল ওয়ালিদের । প্রিন্স খালিদ বিন তালাল আল সাউদের সব থেকে বড় ছেলে প্রিন্স ওয়ালিদ সৌদির প্রধান এক রাজ পরিবারের প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালালের ভাইপো। ২০০৫-এ মাত্র ১৫ বছর বয়েসে প্রিন্স লন্ডনে এক মিলিটারি ক্যাডেট স্কুলে পড়াশোনা করতে যান। সেখানেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর সৌদি থেকে শুরু করে আমেরিকা এবং স্পেনের বিখ্যাত চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হলেও প্রিন্সকে আর জ্ঞানে ফেরানো যায়নি। গোটা পৃথিবীর বহু বিখ্যাত চিকিৎসক প্রিন্সের ব্যাপারে আর কিছু করার নেই জানিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল চিকিৎসকরা এই দীর্ঘ ২০ বছরে বহু বার প্রিন্সের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম অর্থাৎ ভেন্টিলেটর সরিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিলেও তাতে রাজি হননি তাঁর বাবা।
তিনি বরাবর বলে এসেছেন ঈশ্বরে তাঁর অগাধ ভরসা। ঈশ্বর চাইলে দুর্ঘটনায় প্রিন্স মারা যেত। কিন্তু তা যখন হয়নি তখন সে একদিন নিশ্চই উঠে বসবে। তবে মাঝে-মাঝে প্রিন্সের কিছু মুভমেন্ট দেখে চিকিৎসকদেরও আশা জেগেছে।প্রিন্সের বাবার এই বিশ্বাস প্রিন্সকে এক আশার আলো হিসেবে দেখতে শুরু করে গোটা পৃথিবী। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রিন্সের জন্মদিনে লক্ষ-লক্ষ মানুষের প্রার্থনা এবং ভালোবাসা এসে পৌঁছায় প্রিন্সের কাছে।
গত ২০ বছর ধরে হাসপাতালে প্রিন্সের ঘরটি যেন হয়ে উঠেছিল এক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। বহু মানুষ প্রতিদিন এখানে এসে প্রিন্সের ফিরে আসার প্রার্থনা করতেন।সৌদি আরবের এক স্পেশাল হেলথ ক্লিনিকের তরফে এদিন প্রিন্সের মৃত্যুর খবর জানাতেই গোটা দেশে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিন্সের বাবা এদিন এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, আল্লাহর ইচ্ছা এবং আদেশকে মেনে নিয়ে দুঃখের সঙ্গে প্রিন্সের মৃত্যুর খবর দিতে হচ্ছে। রবিবার প্রিন্সের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
