কিছুদিন ধরেই ফের শিরোনামে অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ঝগড়া এবং সেই কারণে ‘হেরা ফেরি ৩’ থেকে সরে আসার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে সেই খবরে প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল দর্শক মহলই। অবশেষে দুই অভিনেতার চেষ্টায় তাঁদের সমস্যা মেটে, এবং ছবি ফেরেন পরেশ রাওয়াল। তবে এবার ফের তিনি শিরোনামে। নিজের মূত্র নিজে পান করা নিয়ে যে মন্তব্যে ঝড় তুলেছিলেন তিনি, এবার সেই ট্রোলেরই জবাব দিলেন। কটাক্ষের সুরে বললেন, ওঁদের দিইনি বলে রাগ?
‘বলিউড হাঙ্গামা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরেশ রাওয়ালকে তাঁর মূত্রপানের মন্তব্যে হওয়া ট্রোল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্ন শুনে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে অভিনেতা বলেন, ‘ওঁদের অফার (মূত্র) করিনি, তাই না? নাকি ওঁদের অফার করিনি বলেই ওঁদের এত সমস্যা? ওঁদের কি এরকম মনে হচ্ছে, ‘আরে একা খেয়ে নিল, আর আমাদের দিল না?’!’ দৃশ্যতই বিরক্ত অভিনেতা বলেন, ‘এটা এমন একটা ঘটনা যা আমার জীবনে ৪০ বছর আগে ঘটেছিল। আমি সেটা বলে ফেলেছিলাম। তাতে কী হয়েছে? লোকজন তিল থেকে তাল বানাতে ভালোবাসে। মজা করতে দিন ওঁদের।’ মূত্রপান করে উপকার পেয়ে কেউ কি অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন? প্রশ্ন শুনে অভিনেতার স্পষ্ট জবাব, ‘অনেক মানুষই করেছেন কিন্তু আমি ওই প্রসঙ্গে আর আলোচনা করতে চাই না।’
এপ্রিল মাসে পরেশ রাওয়াল জানান যে রাকেশ পাণ্ডের সঙ্গে একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে তিনি পায়ে চোট পান। তারপর টিনু আনন্দ ও ড্যানি ডেঞ্জোংপা তাঁকে নিয়ে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ছুটে যান। পরেশ রাওয়াল জানান, তিনি ‘ভীষণ ভয়ে’ ছিলেন এবং মনে মনে ধরেই নিয়েছিলেন যে তাঁর কেরিয়ার হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু এরপর প্রয়াত অ্যাকশন ডিরেক্টর বীরু দেবগণ হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান এবং তাঁকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য নিজের মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
‘দ্য লল্লনটপ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরেশ রাওয়াল বলেন, ‘আমি যখন নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, তখন বীরু দেবগণ আমাকে দেখতে এসেছিলেন। তিনি জানতে পারেন আমি সেখানে আছি, তারপর আমার কাছে এসে জানতে চান, কী হয়েছে আমার? আমি তখন তাঁকে বলি যে আমার পায়ে চোট লেগেছে।’ এরপর পরেশ রাওয়াল জানান, কী উপদেশ দিয়েছিলেন বীরু দেবগণ। অভিনেতার কথায়, ‘তিনি আমাকে বলেন, সকালে উঠে প্রথমে নিজের প্রস্রাব পান করতে। সব ফাইটাররা এটা করে। তাহলে কোনও সমস্যা হবে না। সকালে উঠে প্রস্রাব খাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি আমাকে মদ্যপান করতে বারণ করেন, যেটা আমি আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
এছাড়া মটন বা তামাকও না খাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সাধারণ খাবার খাও আর সকালে প্রস্রাব খাও।’ দিন ১৫ নাকি সেই কথা মেনেও চলেছিলেন অভিনেতা এবং তারপর এক্স-রে রিপোর্টে তাঁর উন্নতি দেখে হতবাক হন চিকিৎসকও, দাবি পরেশ রাওয়ালের। দুই থেকে আড়াই মাস লাগার কথা যে চোট সারতে, তা মাত্র ১৫ দিনেই সেরে যায় অভিনেতার। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় ট্রোল।
