শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠলো খোদ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আর তা নিয়েই মঙ্গলবার তুলকালাম বেধে যায় পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড়ে্র একটি স্কুল নারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। লাটে ওঠে সাড়ে চারশো ছাত্রছাত্রী থাকা স্কুলের পঠনপাঠন। গ্রামবাসীদের রোষের হাত থেকে বাচাঁতে অভিযুক্ত শিক্ষককে টিচার্স রুমে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। ক্ষোভ বিক্ষোভ চরমে উঠলে ভাতাড় থানার পুলিশ স্কুলে পৌছায়। অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে করে নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়। হেনস্থারও শিকার হন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁটপাটকেল ছোঁড়া শুরু হয়। তখনই পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্বে এনে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, একটা বাজে ঘটনা ঘটেছে।স্কুলের মাস্টারমশাই ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক ছাত্রী বলছে তাকে ব্যাড টাচ করা হয়েছে। শিক্ষিকাদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, শিক্ষিকারা ক্ষমা চাওয়া করিয়েছেন। আগে এরকম কোনো ঘটনা ঘটে নি।যদিও অভিভাবকদের অনেকেই এদিন অভিযোগে বলেন,“আগেও অনেকবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে।যাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল তারা একটু বড় ক্লাসের ছিল তাই লজ্জায় তাঁরা প্রতিবাদ করতে পারেনি। এবার ছোট ক্লাসের একটি ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করায় সে প্রতিবাদ করে এবং শিক্ষিকাদের জানায়। কিন্ত স্কুলের শিক্ষিকারা কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।উল্টে শিক্ষিকারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাড়িতে কিছু জানালে টিসি দিয়ে দেওয়া হবে বলে শিক্ষিকাদের তরফে বলা হয় ।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
এদিন স্কুলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের কথায় জানা গিয়েছে,বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সোমবার ছুটির পর বাড়িতে গিয়ে তাঁর অভিভাবকদের জানায় স্কুলের এক শিক্ষক তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে। ছাত্রীর বাবা মা মঙ্গলবার ঘটনার কথা প্রতিবেশীদের কাছে জানান। ছাত্রীর বাবা মা পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনার কথা বলে মঙ্গলবার দুপুর বারোটা নাগাদ স্কুলে যান। ততক্ষণে গ্রামের অন্যান্য পাড়ায় খবর চলে যায়।বিভিন্ন পাড়া থেকে লোকজন ভিড় করেন স্কুলে। ওই শিক্ষককে চেপে ধরেন গ্রামবাসীরা।
তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করতে টিচার্স রুমে আটকে তালা লাগিয়ে দেন। তা নিয়ে স্কুলের বাইরে একটানা বিক্ষোভ চলে। সেই খবর যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামালদিয়ে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভে স্কুল উত্তাল হলেও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ কেউ থানায় দায়ের করেনি।
