চলতি টেস্টে আর হয়ত খেলা হবে না ঋষভ পন্থের। লর্ডসে বাঁ হাতের আঙুলে চোট পাওয়ার পর ম্যানচেস্টারে পন্থের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। শেষপর্যন্ত সব জল্পনা কল্পনা উড়িয়ে মাঠে নামলেও নতুন করে ফের চোটের কবলে ভারতীয় উইকেটরক্ষক। ওল্ড ট্রাফোর্ডের প্রথম দিনই ব্যাট করতে নেমে ডান পায়ের পাতায় গুরুতর চোট পেয়েছেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, পায়ের পাতার হাড় ভেঙে গিয়েছে। ফলে এই ম্যাচে তো বটেই, সেই সঙ্গে বাকি সিরিজেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন পন্থ।
কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ফিরে এসেছেন ঋষভ। গত ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভয়ঙ্কর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তিনি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ময়দানে ফিরে আসার গল্পটা কোনও রূপকথার থেকে কম কিছু নয়। বুধবার সেই পন্থকেই যন্ত্রণায় যেভাবে কুঁকড়ে যেতে দেখা গেল তাতেই পরিষ্কার চোট কতটা গুরুতর। রিকি পন্টিংয়ের মত প্রাক্তনীর ধারণা, পন্থের ‘মেটাটারসাল ফ্র্যাকচার’ হতে পারে। অর্থাৎ পায়ের পাতায় পাঁচটি হাড়ের মধ্যে কোনও একটিতে চিড় ধরে থাকতে পারে।
ভারতীয় ইনিংসের ৭৮ তম ওভারে ডান পায়ের পাতায় চোট পান পন্থ। ক্রিস ওকসের ইয়র্কার বল সুইপ করতে গিয়েছিলেন তিনি। বলটি ব্যাটের কানায় লেগে সজোরে আছড়ে পড়ে ডান পায়ের গোড়ালির ঠিক নিচে। এ সময় ব্যাথায় রীতিমত ছটফট করতে দেখা গিয়েছে ভারতের উইকেট কিপার ব্যাটারকে। ঠিক করে পা ফেলতেও পারছিলেন না তিনি।এরপর ফিজিও এসে পরীক্ষা দেখেন, পন্থের পা ফুলে গিয়েছে। ক্ষতের দাগ ছাড়াও রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায় সেখানে।
তড়িঘড়ি ক্যাবি অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় পন্থকে। এ দিকে যা জানা যাচ্ছে, পন্থের চোট কতটা গুরুতর তা খতিয়ে দেখেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পন্টিংয়ের কথা অনুসারে যদি সত্যি সত্যিই ‘মেটাটারসাল ফ্র্যাকচার’ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপাতত পন্থের মাঠে ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। চোট যদি তেমন গুরুতর না হয় তা হলে অস্ত্রোপচার না করলেও চলে। তবে পায়ের ওপর চাপ কম দেওয়া, বিশেষ জুতো পড়া, ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি পরামর্শ মেনে চলতে হবে পন্থকে।
