দেশজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে ‘কার্গিল বিজয়’ দিবস। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহিদ সেনাদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর ২৬ জুলাই কারগিল বিজয় দিবস পালন করা হয়।
কার্গিলের দ্রাসে আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পালিত হল কার্গিল বিজয় দিবস। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ। শহিদদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তিন হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় মানুষ।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শনিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং কার্গিল যুদ্ধে সেনাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লিখেছেন, “কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনারা যে সাহস এবং বীরত্ব দেখিয়েছেন, দেশের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন তাকে ‘স্মরণ’ করে ভারত প্রতি বছর ২৬ জুলাই কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপন করে। আমি সেই সাহসী সেনাদের শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা মাতৃভূমি রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও দু’বার ভাবেননি। এই দিনটি আমাদের সেনাবাহিনীর অসাধারণ সাহস এবং দৃঢ়তার প্রতীক। দেশের জন্য তাঁদের নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ সর্বদা দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে”।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং কার্গিল যুদ্ধে সেনাবাহিনী যে সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে দেশের জন্য জয় ছিনিয়ে নিয়ে এনেছিলেন, তার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লিখেছেন, “সেনাবাহিনীর সেদিনের আত্মত্যাগ প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। কার্গিল বিজয় দিবসে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই”।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে কার্গিল যুদ্ধের সময় যাঁরা দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন , ‘কারগিল বিজয় দিবসে, আমি সেই সাহসী সৈন্যদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। কার্গিল যুদ্ধের সময় তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অটল সংকল্পের চিরন্তন স্মারক। ভারত সর্বদা তাঁদের সেবার জন্য ঋণী থাকবে।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের বীর সেনাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কার্গিল বিজয় দিবস দেশের বীর সৈনিকদের গর্ব এবং বিজয়ের একটি অবিস্মরণীয় দিন। কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে, আমি সেই সাহসী সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই যাঁরা মাতৃভূমি রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এই জাতি সর্বদা আপনাদের আত্মত্যাগের কাছে ঋণী থাকবে”।
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠিও এদিন শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, কার্গিল যুদ্ধ ৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল এবং ২৬ জুলাই, ১৯৯৯ সালে ভারতের জয়ের মধ্য দিয়ে সেই যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। শহিদ হয়েছিলেন ৫২৭ সেনা জওয়ান। সেই থেকে সমগ্র দেশ ২৬ জুলাই দিনটিকে কার্গিল বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে।
