গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমে ফ্রান্স, তারপরে ব্রিটেন ও এবার কানাডা দেশ হিসেবে প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়ে দিল। দিনকয়েক আগেই আগামী সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যালেস্তাইনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। অন্যদিকে গাজায় অমানবিকতা বন্ধ করতে ইজরায়েল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না রাখলে আগামী সেপ্টেম্বরেই প্যালেস্তাইনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা মঙ্গলবারই জানিয়ে দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এবার সেই পথে হাঁটল কানাডাও। বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা করেছেন, সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দেবে কানাডাও।
প্যালেস্তাইন আসলে কী? কেন এই স্বীকৃতির প্রয়োজন?
আসলে এক অর্থে এই পৃথিবীতে প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র আছে, আবার নেইও। বহু দেশের কাছে এর কূটনৈতিক স্বীকৃতি রয়েছে। রয়েছে বিদেশে দূতাবাস, এমনকী অলিম্পিক-সহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্যালেস্তাইন। তথ্য বলছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ইতিমধ্যেই প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগই হল আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার ছোট বড় দেশ। ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে প্যালেস্তাইন সদস্য নয় এমন পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত।
প্যালেস্তাইনের ক্ষমতা কাদের হাতে?
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত, রাজধানী, সেনাবাহিনী না থাকলেও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের কিছু অংশে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ‘প্যালেস্তাইন ন্যাশনাল অথরিটি’। অন্যদিকে ২০০৭ সাল থেকে গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ‘হামাস’-এর হাতে। যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ দুই অঞ্চলকেই ইজরায়েল অধিকৃত এলাকা বলে গণ্য করে। তবে মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে সেখানে সাধারণ নির্বাচন হবে এবং সেখানে হামাসের কোনও ভূমিকা থাকবে না।
বৃহৎ অর্থনীতির কারা স্বীকৃতি দিয়েছে প্যালেস্তাইনকে?
জি ২০ বা বিশ্বের ২০টি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে ভারত, চচন, তুরস্ক, আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, মেক্সিকো, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা প্যালেস্তাইনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবার ব্রিটেন, কানাডা ও ফ্রান্সও সেই তালিকায় যোগ দিতে চলেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এখনও স্বীকৃতি দেয়নি।
কূটনীতিতে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত?
ইতিমধ্যেই আমেরিকার সমর্থনে ইজরায়েলের লাগাতার হামলায় মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে গাজা। না খেতে পেয়ে, চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের হামলায় নির্বিচারে মানুষের মৃত্যু থামাতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বিশ্বের ২৮টি দেশ। হামাসকে বাগে আনার নামে জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।
তবে বিভিন্ন দেশের এই স্বীকৃতি ঘোষণায় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইজরায়েল। তাদের দাবি, এর মানে হল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের বর্বরতার বৈধতা প্রদান করা। তবে ইজরায়েল এমন দাবি করলেও চোখের সামনেই গাজার ধ্বংস হয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না অনেক দেশ। যেমন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গাজায় সাধারণ মানুষের ভয়াবহ দুর্দশা জেনেও আর সময়ের অপচয় করা যাবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি।
