রবিবার আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুনিরের সেই বক্তব্যের কড়া জবাব দিল দেশের বিদেশমন্ত্রক।
এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, পাক সেনাপ্রধান আমেরিকার মাটিতে যা বলেছেন তা আমরা নজরে রাখছি। উনি পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন।এটা তো পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস। নিতান্তই অপরিণত এই মন্তব্যে প্রশ্ন ওঠে, পাকিস্তানি সেনা কি জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে? সেক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কি পাকসেনার হাতে থাকা উচিত?
পাক সেনাপ্রধান আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। তাই আমেরিকাকেও কটাক্ষ করেছে বিদেশমন্ত্রক । বিদেশমন্ত্রক বলেছে, একটি বন্ধু রাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে পাক সেনাপ্রধান এক তৃতীয় দেশের উদ্দেশে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখের।
বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের পরমাণু যুদ্ধের হুমকিতে ভারত ভয় পায় না।নিজেদের রক্ষা করতে ভারত সব ধরণের পদক্ষেপ করবে।
রবিবার আমেরিকার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে পাক সেনাপ্রধান বলেন, পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি পরমাণু যুদ্ধ শুরু হয় তবে পাকিস্তান একা ধ্বংস হবে না। বরং বিশ্বের অর্ধেক দেশকে নিয়ে ধ্বংস হবে। মুনিরের কথায়, পাকিস্তান এবার নাকি ভারতকে পূর্ব দিক থেকে নিশানা করবে। মুনিরের ওই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তান কি এবার বাংলাদেশকেই তাদের বেস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে?
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের এই পরমাণু যুদ্ধের হুমকি তাদের স্বাভাবিক কৌশল। পাক সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, পাকসেনার সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। যা গোটা বিশ্বের কাছেই আতঙ্কের। তবে পাকিস্তানের এই হুমকির কাছে ভারত মাথা নত করবে না। বরং দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ করবে।
শুধু সরকার পক্ষ নয় মুনিরের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেছেন শিবসেনা (উদ্ধব শিবির) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী।
প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। সেই দেশের সেনাপ্রধানের এই হুমকি এক কাপুরুষোচিত কাজ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার উচিত অবিলম্বে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কারণ ওই সমস্ত অস্ত্র রয়েছে একজন উন্মাদ ব্যক্তির হাতে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা গৌরব বল্লভ বলেছেন, ভারত আর আগের জায়গায় নেই। এখন গুলির জবাব গোলায় দেয় ভারত। পাক সেনা প্রধান সন্ত্রাসবাদের মুখ হয়ে উঠেছেন। আইএমএফের উচিত অবিলম্বে ইসলামাবাদকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করা।
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদ বলেছেন, ভারত যদি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দখলে নিত তাহলে মুনিরের এই মন্তব্য করার সাহস দেখাতেন না।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, পাক সেনাপ্রধানের ওই মন্তব্য এবং পাল্টা ভারতের জবাবে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা ও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। সরকারকে যেভাবে ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা সমর্থন করেছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোটা ভারত ঐক্যবদ্ধ।
