আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে পরমাণু হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া পাকিস্তানের অবস্থা অনেকটা সেই নিজেকে অনেক বড় মনে করা কুয়োর ব্যাঙের মতো। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ‘অর্ধেক দুনিয়া ধ্বংস করার’ হুমকি আসলে ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই নয়। আসলে পাকিস্তানের যা পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তা শুধুমাত্র আঞ্চলিক প্রতিরোধের জন্য, গোটা বিশ্বকে ধ্বংস করার কোনও ক্ষমতাই সেদেশের নেই।
আমেরিকায় দাঁড়িয়ে ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। মনে করিয়েছেন, তারা পরমাণু শক্তিধর দেশ। সিন্ধু বাঁধ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছেন ভারত যদি ওখানে বাঁধ তৈরি করে, তাহলে পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে তা ধ্বংস করে দেবে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, যদি মনে হয় যে, আমরা ডুবে যাচ্ছি, তাহলে একা নয়, বরং অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়েই ডুবব। মার্কিন মাটিতে দাঁড়িয়ে এই প্রথম কোনও পাক সেনাপ্রধানের মুখে এমন ভাষা শোনা গেল। যদিও এমন কথা শুনে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ভারত এই ধরণের কোনও হুমকিতে ভয় পায় না।
কিন্তু পাকিস্তানের হাতে আসলে কত পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আছে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে সেই তথ্য উঠে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের হাতে আছে প্রায় ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র বা ওয়ারহেড। এর মধ্যে প্রায় ১৬২টি সক্রিয় অবস্থায় আর বাকিগুলো মোতায়েনের জন্য রাখা আছে।
এই রিপোর্টে বলা হচ্ছে হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলেও তার সীমাবদ্ধতার শেষ নেই। যেমন এগুলোর বিশ্বব্যাপী আঘাতের ক্ষমতা সীমিত। সর্বোচ্চ রেঞ্জের শাহিন-৩ এর পাল্লা ২,৭৫০ কিমি – যা আন্তঃমহাদেশীয় আঘাতের জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি পাকিস্তানের নাসরের মতো স্বল্প-পাল্লার অস্ত্রই বেশি, যা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যবহারের জন্য। মুনিরের দেশের আকাশপথ হানার ক্ষমতাও সীমিত, এক্ষেত্রে তাদের নির্ভরতা মূলত পুরনো মিরাজ III/V-এর ওপর।
অন্যদিকে সমুদ্রপথ প্রতিরোধ ক্ষমতায় রাখা বাবর-৩-এর রেঞ্জ কম এবং মোতায়েন সংখ্যাও যথেষ্ট কম। তথ্য বলছে পাকিস্তানের সব সিস্টেম সবসময় পারমাণবিক মোডে থাকে না। এই প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ইসলামাবাদের তরল জ্বালানি নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রই বেশি, যা ধীর এবং দুর্বল। অন্যদিকে স্থায়ী ঘাঁটির অবস্থান জানা থাকায় সহজে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে যেকোনও পাক পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থা।
কাজেই মুখে হুমকি দিলেও পাকিস্তানের পারমাণবিক ভাণ্ডারের প্রকৃত চিত্র আসলে খুবই দুর্বল। তবে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের ঝনঝনানি’ বলে নিন্দা করা হলেও এতে পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড ও কন্ট্রোলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে বলে দাবি তুলেছে দিল্লি।
