পহেলগাঁওয়ে ন্যক্কারজনক জঙ্গিহানা। ছাব্বিশ নিরীহ মানুষের মৃত্যু। নিরাপত্তার নাকের ডগা দিয়ে এসে নির্বিচারে ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই। এল, ধর্ম জিজ্ঞেস করল, মেরে দিয়ে চলে গেল। অথচ বৈসরণ ভ্যালির ওপারেই উঁচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, নিশ্চিন্তে পাকিস্তান থেকে নেমে আসা সহজ। সেখানে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি থাকার কথা। ছিল কি? লাখ টাকার প্রশ্ন। না থাকলে কেন? থাকলে নিরীহ মানুষগুলোকে বাঁচানো গেল না কেন? লাগাতার বিরোধী আক্রমণের মুখে কার্যত দিশাহারা দেখিয়েছে কেন্দ্রকে। সুযোগ পেলেই মোদি-শাহকে ছিঁড়ে খেয়েছে বিরোধীরা। কিন্তু যখন প্রত্যাঘাত করল ভারত, পাকিস্তানে ঢুকে মারল, গুঁড়িয়ে দিল লস্কর, হিজবুল, জৈশের অন্তত নটি জঙ্গিঘাঁটি, তখন সব বিরোধীর মুখে ভারতীয় বায়ুসেনার জয়গান, মুখে বন্দে মাতরম ধ্বনি। সীমান্তে একাধিক পাক সেনাঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আকাশে একের পর এক ভারতীয় এয়ারক্যাফ্ট চক্কর মেরেছে। খুঁজে খুঁজে মেরেছে জঙ্গিদের। খতম করেছে অন্তত নশো জঙ্গিকে। বিরোধীরা সাবাশি দিয়েছে।
কিন্তু এই প্রত্যাঘাতে কি কোনও সেনা জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন? ভারতীয় বায়ুসেনার কোনও বিমান কি ধ্বংস হয়েছে? পাকিস্তানের লাগাতার মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছে ভারত। কিন্তু সে জবাবে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধীরা। বাদল অধিবেশনের শুরুতে সিঁদুর অপারেশন নিয়ে কেন বিবৃতি দেননি প্রধানমন্ত্রী, তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা করেছে বিরোধীরা। হইহট্টগোল, সংসদ মুলতুবি, সব হয়েছে। কিন্তু যে প্রশ্নে বিরোধীরা বিজেপিকে ছেঁকে ধরেছে, তা নিয়ে সদুত্তর মেলেনি। পুলওয়ামা, পহেলগাঁও। ভয়ঙ্কর জঙ্গি হানা। তার পাল্টা বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও অপারেশন সিঁদুর। কিন্তু এখনও কেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করা গেল না? সন্ত্রাসের আঁতুঁরঘর পাকিস্তানের থেকে কেন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে না পাক অধিকৃত কাশ্মীর? বিরোধীদের এই প্রশ্নবানে জর্জরিত কেন্দ্র। আর কবে? ফের প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বিরোধীদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তার পরেও কেন্দ্রীয় সরকার কেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করতে ভয় পাচ্ছে? মাঝে মাঝেই তো শৌর্য নিয়ে বুক চাপড়ায় তারা। ফাঁপা আশ্বাস মিশে থাকে তাতে। কিন্তু ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্মে, সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কড়া পদক্ষেপ দেখা যায় না কেন? কেন শত্রুদের শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা যাচ্ছে না?’
অভিষেক প্রশ্ন তুললেন এমন একটা দিনে, যেদিন লোকসভায় তিন বিতর্কিত বিল পেশ করলেন অমিত শাহ। অভিযু্ক্ত, জেলখাটা প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের সরাতে যে বিল আইন হয়ে এলে কাজে দেবে, সেই বিল পেশের পরেই তার কপি ছিঁড়ে ছুড়ে দেন বিরোধী সাংসদরা। তিন বিতর্কিত বিলের বিরোধিতার দিনেই নতুন করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল নিয়ে ফের কেন্দ্রকে তুলোধোনা করে অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন, তারা সহজে ছাড়বার পাত্র নয়।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
