বিরোধী শিবিরে বিশেষ করে কংগ্রেসে অনেক যোগ্য, দক্ষ ও তরুণ নেতা আছেন। কিন্তু তাঁদের সামনে আসতে দেওয়া হয় না। তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। এই সমস্ত তরুণ নেতাদের উপস্থিতিতে রাহুল গান্ধী নিজেকে সুরক্ষিত মনে করেন না বরং তিনি কিছুটা সমস্যায় ভোগেন। গান্ধী পরিবার কখনওই চায় না এই সমস্ত তরুণ নেতাদের সামনে আনতে।
বৃহস্পতিবার এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে এক চা-চক্রে
মিলিত হয়ে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষে এদিন এনডিএর সব সাংসদের সঙ্গে এক চা চক্রে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী। এখানেই তিনি কংগ্রেসের তরুণ নেতৃত্বের কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কংগ্রেসে রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেক যোগ্য ও দক্ষ নেতা আছেন। কিন্তু তাঁরা গান্ধী পরিবারের সদস্য নন বলে তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এবার বাদল অধিবেশনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেক কাজ হয়েছে। বাদল অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম অনলাইন গেম বিল। এই বিল পাশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনলাইন গেম গোটা দেশের মানুষের উপর বিপুল পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উল্লেখ্য, বুধবার অর্থাৎ ২০ অগস্ট অনলাইন গেম বিল ২০২৫ লোকসভায় পাশ হয়। এই বিল পাশ করিয়ে অনলাইন গেমে টাকা দিয়ে বাজি ধরা বা জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল মোদি সরকার। শিল্পমহলের আপত্তি উড়িয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বিল পাশ করাল সরকার।এই বিল আইনে পরিণত হলে বাজি ধরে অনলাইন গেম খেলা হলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, অনলাইন গেমিং-এ টাকা দিয়ে জুয়া খেলা বহু মানুষের কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছিলেন। অনেকেই সর্বস্ব খুইয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এই সর্বনাশা নেশা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এই বিল।
একইসঙ্গে সংসদে উভয় কক্ষে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীরা গঠনমূলক আলোচনা না করে শুধুই চিৎকার চেঁচামেচি করে সভার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। বুধবার সংসদের তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই তিন বিল নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে ধুন্ধুমার বাধে। বিরোধীরা ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভ দেখায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এক ধাপ এগিয়ে ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলকে হিটলারি বিল বলে উল্লেখ করেন।
