মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতির ফাঁক গলে কি এশিয়ায় নিজের সাম্রাজ্য বিস্তারে নেমে পড়ল চিন? চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র দিল্লি সফরের পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ট্রাম্প অন্যায্যভাবে ভারতের উপর ৫০% শুল্ক চাপানোর পর চিনা বিদেশমন্ত্রীর দিল্লি সফর ও সৌহার্দ্যমূলক যৌথ বিবৃতি দুদেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে।
এরপরেই ওয়াং ই সরাসরি কাবুলে যান ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগের বৈঠকে যোগ দিতে। একসময় পাকিস্তানের হাত ধরে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারকারী চিন এখন নিজস্ব কূটনীতির পথে হাঁটছে। ২০১৭ সালে যে প্রক্রিয়ার সূচনা, তা মাঝে থেমে গেলেও ২০২২ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তা আবার সক্রিয় হয়। ওয়াং ই এবার কড়া সুরে বলেছেন যে চিন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রস্তুত। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়াকে একক কাঠামোয় দেখার প্রবণতা থেকেই চিনের এই কূটনৈতিক চাল ও অতি সক্রিয়তা যা ওয়াশিংটনের বিভাজন ও নিয়ন্ত্রণ কৌশলের বিপরীতেই কাজ করছে।
এরপর ওয়াং ই ইসলামাবাদে গিয়েও বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে একই কাঠামোয় রেখে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে চিন স্পষ্টতই দক্ষিণ এশিয়াকে একটি সম্মিলিত কাঠামোয় নিয়ে আসতে চাইছে।
তবে ভারতও বসে নেই। চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মস্কো সফরে গিয়ে দেখা করেছেন রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও সেরেছেন তাঁর মস্কো সফর। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিগগিরই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিয়ানজিন। অর্থাৎ এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প সাপের লেজে পা দেননি তো? নোবেল শান্তি পাওয়ার লোভ, নিজের আখের গোছাতে গিয়ে একইসঙ্গে শত্রুতা বাড়াচ্ছেন না তো ভারত, রাশিয়া, ইউক্রেন, চিন, আফগানিস্তান, ইরান, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের সঙ্গে?
