নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকেই যাচ্ছে। এতদিন ভারতের উপর বিশাল মার্কিন শুল্ক আরোপ নিয়ে চর্চা চলছিলই। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নোটিস জারি করেই দিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হিসেবমতো ২৭ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই শাস্তিমূলক শুল্ক কার্যকর হবে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতরের জারি করা ওই নোটিসে বলা হয়েছে, রুশ সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘হুমকির’ প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভারতের পণ্য আমদানিকে সেই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।
যদিও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে শাস্তিমূলক মার্কিন শুল্ক কার্যকর হওয়ার দু’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারত অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। আহমেদাবাদের নিকোলে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “যত চাপই আসুক, আমরা সেই চাপ সহ্য করার শক্তি আরও বৃদ্ধি করব।”
প্রধানমন্ত্রী এদিন জোরের সঙ্গে জানিয়েছেন যে তার সরকার কখনও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও পশুপালকদের স্বার্থের ক্ষতি হতে দেবে না। মার্কিন শুল্ককে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, “আজ দুনিয়ায় আর্থিক স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি চলছে, সবাই শুধু নিজের স্বার্থে ব্যস্ত। আমরা তা স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি।”
শুল্ক নীতি নিয়ে এখনও নিজের গাজোয়ারি অবস্থানেই অনড় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবারও নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, যেসব দেশ মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার ওপর ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স সহ নানা নিয়মকানুন চাপিয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকান চিপ রফতানিতে কড়া নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন করে বড় শুল্ক আরোপ করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন তাঁর নিজের দেশের টেক কোম্পানি ও অন্যান্য সংস্থার স্বার্থের কথা আগে ভাবার কথা বলছেন ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বদেশি পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের সবার উচিত কেবলমাত্র ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য কেনার মন্ত্র মেনে চলা। ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানের বাইরে বড় বোর্ড ঝুলিয়ে দিন, যেখানে লেখা থাকবে, এখানে কেবল স্বদেশি পণ্য বিক্রি হয়।”
