কৌন বনেগা ক্রোড়পতি। Sony Entertainment Television চ্যানেলের জনপ্রিয় গেম শো-র সঞ্চলনার দায়িত্বে মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। সেই শুরু থেকে এবারের সপ্তদশ সংস্করণেও চেনা মেজাজে সঞ্চালক বিগ বি। সাধারণ জ্ঞানের গভীর ব্যাপ্তির পাশাপাশি, হট সিটে বসা প্রতিযোগীর মনোমুগ্ধকর জীবন কাহিনী মাতিয়ে রাখে দর্শককে। আর প্রতিযোগীর সঙ্গে সঞ্চালকের মজাদার কথোপকথন এক একটি এপিসোডকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়। সোম থেকে শুক্র, রাত ৯ টায় শুরু হয় এক একটি এপিসোড। সর্বশেষ এপিসোডে হট সিটে বসার সুযোগ পেয়েছেন ওড়িশা বালাঙ্গিরের গৃহবধূ পূজা কুমারী।
গৃহ শিক্ষিকা পূজা হট সিটে বসে শুনিয়েছেন তাঁর জীবন সংগ্রামের অত্যাশ্চর্য সব কাহিনী। নিম্নবিত্ত পরিবারে আর্থিক কষ্ট তো ছিলই, শুনিয়েছেন সামাজিক প্রত্যাশার চাপ কাটিয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার লড়াই। বলেন, ক্লাস সেভেনে উঠতে না উঠতেই তাঁর বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয়েছিল বাড়িতে। ক্লাস এইটে একরকম জোর করেই বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁর বাবা-মা। কমপক্ষে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়তে চেয়ে সেই বিয়েতে তখন রাজি হননি পূজা।
হট সিটে বসে বিগ বি কে পূজা বলেন, “আমি আমার বাবার কাছে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে শিক্ষার সাহায্যে অনেক কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব। বাবার মদ্যপানের নেশা ছিল। সবাই প্রতিবাদ করেছিল যে আমাকে অষ্টম শ্রেণির পরে পড়াশোনা করতে দেওয়া উচিত নয়। তাছাড়া গ্রামের স্কুলটি কেবল সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। তাই অনেকটা দূরে আরেকটি স্কুল ভর্তি হই। আমি কোনওভাবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে চেয়েছিলাম। এক একটা বছর নামমাত্র খাতা আর পেন-পেন্সিল দিয়ে আমাকে চালাতে হত। পরে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় যখন টপার হই, তখন সবাই খুব অবাক হয়েছিল। কোনও টিউশন, কোনও সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই আমি কীভাবে শীর্ষে উঠলাম তা নিয়েই ছিল সবার বিস্ময়-কৌতূল। তবে স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন।”
পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকতার চাকরিও করেছেন একটা সময়। বলেন, “২০১৬ সালে আমি পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু তার ফি ছিল ১২,০০০ টাকা। আর আমি স্কুল থেকে ২০,০০০ টাকা পেতাম। ফলে পরিবারকে খাওয়াতে স্কুলে চাকরি করতে হয়েছিল।” সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন এই সময় জানতে চান পূজা তাঁর স্বামীর সঙ্গে কীভাবে দেখা করেছিলেন। হটসিটে বসা সপ্রতিভ গৃহবধূ সেই প্রশ্নেও ছিলেন সাবলীল। জানান, তাঁদের আর্থিক দুরবস্থার কারণেই বাবা-মা কোনও উপযুক্ত পাত্র খুঁজে পাননি। তাই একটি ম্যাচমেকিং সাইটে গিয়ে নিজের প্রোফাইল খুলেছিলেন। বলেন, “আগের জন্মে বোধহয় অনেক ভাল কাজ করেছিলাম। ”তিনি” প্রোফাইল দেখে নিজেই ফোন করেন। আমি তাঁকে নিজের সম্পর্কে বলেছিলাম। একই সঙ্গে ভয়ও পেয়েছিলাম বিয়ে করতে। কিন্তু একটি ঝুঁকি নিয়েছিলাম তখন, তবে আমার জীবনে, সেই ঝুঁকিটাই সেরা ঘটনা।”
বিয়ের পর সংসার সামাল দিতে চাকরি ছেড়েছেন। কিন্তু পড়াশোনার নেশাটা ছাড়েননি পূজা। এখন গৃহশিক্ষকতার পাশাপাশি পিএইচডি টাও পূর্ণ করতে চান ওড়িশার বালাঙ্গিরের গৃহবধূ পূজা কুমারী। কৌন বনেগা ক্রোড়পতির হটসিটে বসে স্বপ্নপূরণের সেই রাস্তাই এখন খুঁজে নিতে চান তিনি। আপাতত ২ লক্ষ টাকার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি রয়েছেন রোলওভার প্রতিযোগী হিসেবে। একটি লাইফলাইন ব্যবহার করেছেন ১ লক্ষ টাকার প্রশ্নে। সঞ্চালক বিগ বি-র প্রশ্ন ছিল, ওড়িশার কোন উৎসবে কাগজের নৌকাগুলির ভিতরে প্রদীপ জ্বালানো হয় এবং মহানদীতে ভাসানো হয়? উত্তরের অপশনে ছিল A. দোল যাত্রা, B. রথযাত্রা, C. বালি যাত্রা, D. স্নান যাত্রা। লাইফলাইন ব্যবহার করে তিনি সঠিক C-কে বেছে নিয়েছিলেন।
