বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে যে সমস্ত লাইফস্টাইল রোগ আমাদের জীবনে জাঁকিয়ে বসেছে তার মধ্যে অন্যতম হল হাইপারটেনশন। একটা সময় মনে করা হত এটি মাঝ বয়সে হয় অথবা বয়স বাড়লে এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়। কিন্তু সেই থিওরিকে ভুল প্রমাণ করেছে বর্তমানের জীবনশৈলী । এখন কুড়ির কোঠাতে যাদের বয়স তাদেরও হাইপারটেনশন হচ্ছে। এমনকী লেট টোয়েন্টি কিংবা আর্লি থার্টিতেই হাইপারটেনশনের রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসছেন এমন নজিরও রয়েছে।
কারণ
কী এমন হল যে আচমকা বেড়ে গেল হাইপারটেনশনের মতো রোগ বিশেষত কম বয়সিদের মধ্যে । এর উত্তরে বলতে হয় জিনগত কারণ তো আছেই মানে মা বা বাবার থাকলে সন্তানের মধ্যেও কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার প্রবণতা থাকে এছাড়া লাগামহীন জীবনযাপন ,ওবেসিটি ,অতিরিক্ত মদ্যপান ,অতিরিক্ত পরিমাণে প্রসেসড ও প্যাকেজড ফুড খাওয়া ইত্যাদির কারণে হাইপারটেনশনের সমস্যা হয় ।এছাড়াও রয়েছে সোডিয়াম ইন্টেক । সস, আচার বা ওই জাতীয় খাবারে মানে প্যাকেজ ফুডে অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম থাকার জন্য এটা যদি খাওয়া হয় তাহলে হাইপারটেনশন বাড়বে বই কমবে না। আর সঙ্গে আছে ফল বা শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে না খাওয়া, সবগুলি একত্রে শরীরের ক্ষতি করে ।
এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে, ঘন্টার পর ঘন্টা একটানা বসে কাজ করা মাঝে বিরতি না নেওয়া । কোনরকম হাঁটাচলা বা এক্সারসাইজ প্রায় বন্ধ ,এর ফলে শরীরে জমতে থাকে অতিরিক্ত মেদ যা হাইপারটেনশনের জন্য আদর্শ ফ্যাক্টর । আর সবার ওপরে আছে স্ট্রেস যা থেকে হয় না এমন কোন রোগ নেই। চাকরির চাপ, জীবন ধারণের চাপ, এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক এল কিনা তার চাপ আর এত চাপে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে গিয়ে হাইপারটেনশনের মতো মারাত্মক রোগকে ডেকে আনে।
হাইপারটেনশনের মাত্রা
এতদিন পর্যন্ত মনে করা হত সিস্টোলিক মানে উপরের প্রেশারটি ১৪০ এম এম প্রতি এইচ জি এবং নিচের প্রেসার অর্থাৎ ডায়াস্টলিক ৯০ এম এম প্রতি এইচজি থাকলে সেটা স্বাভাবিক কিন্তু বর্তমানের গাইডলাইন অনুসারে উপরের প্রেসার ১৩০ ও নিচেরটি ৮০ থাকলে তাকে স্টেজ ওয়ান হাইপারটেনশন বলে ধরা হচ্ছে। এবং উপরেরটি যদি ১৪০ ও নিচেরটি ৯০mm প্রতি এইচজি থাকে তাহলে তাকে স্টেজ টু হাইপারটেনশন বলে অভিহিত করা হয়।
অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি
উচ্চ রক্তচাপ থেকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও নানা রকম ক্ষতি হতে পারে। যেমন হার্টের সমস্যা লেফট ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি এছাড়া কিডনিতে প্রোটিন ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যায় এমনকী প্রেসার খুব বেশি থাকলে ইউরিনের সঙ্গে প্রোটিন বেরোতে পারে। মস্তিষ্কের স্ট্রোক এবং হেমারেজ-এর মতো সমস্যা দেখা দেয়। চোখে রেটিনারও ক্ষতি করে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ।
প্রতিকার
স্টেজ ওয়ান হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে সাধারণত লাইফস্টাইল মডিফিকেশন করিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। তবে কারোর যদি হার্টের সমস্যা কিডনির সমস্যা লিভার বা চোখের সমস্যা থাকে এবং তার ওষুধ চলে তাহলে তাকে খুব কম ঔষুধ দিয়ে জীবনশৈলীগত বেশ কিছু পরিবর্তন করতে নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা আর যাঁদের স্টেজ টু হাইপারটেনশন আছে তাদের ক্ষেত্রে ওষুধ বা দু ধরনের ওষুধ কম্বিনেশন করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও লাইফস্টাইল মডিফিকেশন জরুরি।
সুস্থ থাকতে মানতে হবে
চিকিৎসকরা বলছেন বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে বছরে অন্তত কয়েকবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা দরকার বিশেষ করে যাদের জেনেটিক সমস্যা ইতিমধ্যেই আছে। বাড়িতে ডিজিটাল বিপি মেশিন কিনে নিজেরাই রক্তচাপ দেখে নিতে পারেন।
প্রতিদিন ওয়ার্ক আউট মাস্ট সঙ্গে ব্রিস্ক ওয়াকিং মানে খুব জোরে হাঁটা। সপ্তাহে অন্তত দেড়শো মিনিট এক্সারসাইজ করা দরকার সঙ্গে কার্ডিও।
খেয়াল রাখতে হবে ডায়েটের দিকটাও । খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম রাখুন আর সোডিয়াম বা নুন যত পারবেন কম খান প্রসেসড ও প্যাকেজড ফুড এড়িয়ে চলুন। নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ সুস্থ থাকবেন আপনি। তবে সমস্ত ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
