ভারত ছটপূজোকে ইউনেস্কোর ইন-ট্যান-জিবল কালচারাল হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একথা রবিবার তাঁর ১২৬তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, এই পদক্ষেপ উৎসবটির সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছটপূজো শুধু একটি আচার নয়, এটি পরিবেশের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা, নিয়ম রীতি আর সামাজিক অংশগ্রহণের জীবন্ত প্রকাশ।
ছটপূজো প্রধানত বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের কিছু অংশে পালিত হয়। এই উৎসব সূর্যদেব ও ছটঠি মাইয়ার আরাধনায় নিবেদিত। ভক্তরা নদীর ঘাট বা পুকুরের ধারে চার দিনব্যাপী কঠোর উপবাস ও আচার পালন করেন। উৎসবের মূল বৈশিষ্ট্য হল পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং সকলে একসঙ্গে মিলে অনুষ্ঠানের উদযাপন। বন্ধুবান্ধব, পরিবার ও প্রতিবেশী মিলেই অংশ নেন এই আয়োজনে।
মোদি উল্লেখ করেন, ছটপূজো ভারতের প্রাচীন প্রকৃতি-পূজার ঐতিহ্যের প্রতীক। কারণ এই পূজোয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে ‘অর্ঘ্য’ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃতির শক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁর কথায়, “ছটপূজো আমাদের নদী, সূর্যালোক ও পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করে। এটি বিশ্বাস ও প্রকৃতির এক মহোৎসব।”
উল্লেখ্য ২০২১ সালে দুর্গাপূজো ইউনেসকোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর, বিশ্বমঞ্চে বাংলার উৎসব সম্মান অর্জন করে। মোদী আশা প্রকাশ করেছেন, ছটপূজো তেমনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে এবং ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও আধ্যাত্মিক গভীরতাকে তুলে ধরবে।
এই লক্ষ্য পূরণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ইউনেস্কো-তে জমা দেওয়ার জন্য উৎসবের ইতিহাস, আচার-পদ্ধতি ও সামাজিক অংশগ্রহণের নথি প্রস্তুত করছে। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভক্তি, পরিবেশ ও সামাজিক ঐক্যের অনন্য সমন্বয় হিসেবে ছটপূজো বিশ্বস্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ভক্ত ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়াবে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে ছটপূজো স্থানীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি। যদি ইউনেস্কো এই মনোনয়ন গ্রহণ করে, তবে ছটপূজো বিশ্বব্যাপী উদযাপিত ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাবে এবং ভারত আবারও জীবন্ত ঐতিহ্যের অন্যতম রক্ষক হিসেবে স্বীকৃত হবে।
